রাজধানীবাসীর যাতায়াতে গতি আনতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের নতুন রুট আগামী সপ্তাহেই উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। এই রুটে যুক্ত হচ্ছে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত এবং এতে যাতায়াতে যাত্রীদের মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট সময় লাগবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সম্প্রসারিত এমআরটি লাইন-৬ এর নতুন এই অংশটি আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। রবিবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত বর্ধিত এই রুটে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা জানান, যান্ত্রিক ও কারিগরি সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি এখন যাত্রীদের সেবা প্রদানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
নতুন এই সম্প্রসারণের ফলে উত্তরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত যাতায়াতের সময় কমে আসবে এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিএমটিসিএল এর তথ্য অনুযায়ী, উত্তরা উত্তর থেকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত এই অংশে মোট পাঁচটি নতুন স্টেশন যুক্ত হচ্ছে। আজ পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় ট্রেনের গতিবেগ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং স্টেশনের প্লাটফর্ম স্ক্রিন ডোরগুলো (পিএসডি) নিখুঁতভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাই করা হয়।
কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই রুটটি চালু হলে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকার প্রায় ৫ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী প্রতিদিন মেট্রোরেল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনের পর সাধারণ যাত্রীদের জন্য রুটটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। উত্তরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত যাতায়াতে যাত্রীদের মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট সময় লাগবে, যা আগে যানজটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে এক ঘণ্টারও বেশি সময় নিত। আজকের সফল পরীক্ষামূলক চলাচলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দ্রুতগতির এই গণপরিবহন ব্যবস্থা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
আগামী সপ্তাহে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন এবং এরপর থেকেই নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী উত্তরা-মতিঝিল রুটের পাশাপাশি উত্তরা-টঙ্গী রুটেও ট্রেন চলাচল শুরু করবে। নবনির্মিত এই অংশে যুক্ত হওয়া পাঁচটি স্টেশন হলো: উত্তরা উত্তর (যেখানে বর্তমান লাইন শেষ হয়েছে), উত্তরখান, কামারপাড়া, ধউর এবং চূড়ান্ত গন্তব্য টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন। এই রুটটি মূলত টঙ্গী ও আশপাশের গাজীপুরগামী যাত্রীদের জন্য ঢাকার মূল কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগের একটি নিরবচ্ছিন্ন মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।