এই দূষণের কারণ ও করনীয়

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বেশ কিছুদিন ধরেই দূষনে শীর্ষ শহরের মধ্যে রয়েছে ঢাকা। দূষনে শীর্ষ দশের নিচে যেন নামছেই না। এর ধারাবাহিকতায় আজও এর ব্যতিক্রম নয়। এমনটাই বলছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজুয়াল’এর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) শহরটি সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা দূষনে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে ছিল।

ভয়ানক দূষণ নগরীর যে স্থানগুলো

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইকিউএয়ার এবং স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার কয়েকটি এলাকা নিয়মিতভাবে দূষণের শীর্ষে থাকে। এর মধ্যে আছে খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকা, ধানমন্ডি, মিরপুর, গুলশান ও বারিধারা, পুরান ঢাকা, দক্ষিণ পল্লবী ও গোড়ান।

লাগাতার দূষনের কারণ

আগের সব রেকর্ডকে ভেঙ্গে বারবার দূষণের তালিকায় বারবার ঢাকার শীর্ষে চলে আসার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণকে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনটাই বলছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি।

নির্মাণকাজ

রাজধানীতে সারাবছরই ছোট-বড় অজস্র ভবন নির্মাণ এবং রাস্তা মেরামতের কাজ চলে। এর পাশাপাশি গত কয়েকবছরে যোগ হয়েছে বিভিন্ন বড় প্রকল্প। যেকোনো ধরনের নির্মাণ কাজ করার সময় বায়ু দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে সেসব নিয়ম পালনের তোয়াক্কা করতে দেখা যায় না।

https://sangbad.net.bd/images/2026/January/26Jan26/news/Untitled-1%20%282%29.jpg

যানবাহন

শহরের যে কোনো রাস্তায় কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই দেখা যাবে, চারপাশকে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে বিকট শব্দে ছুটে চলছে বিভিন্ন ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বিশেষ করে বাস ও ট্রাক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে এখনো অবলীলায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি ঘুরে বেড়াতে পারছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং ট্র্যাফিক পুলিশদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে।

বর্জ্য পোড়ানো

ক্যাপস-এর গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার যেসব এলাকায় বর্জ্য পোড়ানো হয়, সেইসব এলাকাতেই বায়ু দূষণ বেশি হচ্ছে। ময়লার স্তূপ যেখানে থাকে, সেখানে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। অনেকসময় এই মিথেন গ্যাসের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচার জন্য পরিচ্ছন্ন কর্মীরা আগুন জ্বালায়।

ট্রান্স-বাউন্ডারি এয়ার পলিউশন

বর্ষাকালে বাংলাদেশের বায়ু ভালো থাকলেও জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারির দিকে দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে ‘ট্রান্স-বাউন্ডারি ইফেক্ট’ হিসেবে বাংলাদেশে দূষিত বায়ু প্রবেশ করে। এটিকে বলে ট্রান্স-বাউন্ডারি এয়ার পলিউশন বা আন্তঃমহাদেশীয় বায়ু দূষণ।

করনীয়

দেশে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বিভিন্ন সময় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখনো নানা উদ্যোগ-কথাবার্তা শোনা যায়; কিন্তু বায়ুদূষণ পরিস্থিতি দিন দিন খারাপই হচ্ছে।

এদিকে, আইকিউ এয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, ঢাকায় বায়ুর যে মান, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে।

এছাড়া বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন-

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার: সিএনজি, ইলেকট্রিক বা হাইব্রিড ইঞ্জিনের ব্যবহার বাড়ানো।

ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ: ২০ বছরের বেশি পুরনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা।

যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে যৌথ পরিবহন ব্যবস্থার প্রচলন।

নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখা: নির্মাণস্থলে বালি, সিমেন্ট ইত্যাদি সামগ্রী ঢেকে রাখা এবং ধুলা কমাতে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা।

নির্মাণ বিধি মেনে চলা: নির্মাণকাজের সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ নিশ্চিত করা।

পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার: ইটভাটা ও শিল্প কারখানায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি প্রয়োগ বাধ্যতামূলক করা।

নির্গমন নিয়ন্ত্রণ: শিল্প কারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

সঠিক বর্জ্য নিষ্পত্তি: আবর্জনা পোড়ানো বন্ধ করে সঠিক পদ্ধতিতে বর্জ্য নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।

পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ: বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বর্জ্য কমানো।

জনসচেতনতা কার্যক্রম: বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো।

কমিউনিটি উদ্যোগ: স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষায় কমিউনিটি উদ্যোগ গ্রহণ ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে জনগণকে সম্পৃক্ত করা।

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

সম্প্রতি