সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান। তিনি সিঙ্গাপুরের নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরেই সে দেশে বসবাস করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তার দেশে ফেরার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে তলব করেছে।
তার বিরুদ্ধে ‘অবৈধ সম্পদ ও মানি লন্ডারিংয়ের’ অভিযোগ।
এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দুদকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আজিজ খানকে। আর সামিট গ্রুপের শেয়ার হস্তান্তর সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্রএ জমা দিতে বলা হয়েছে।
আজিজ খানের স্ত্রী ও মেয়েসহ পরিবারের মোট ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক। সোমবার দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম তলবের চিঠি পাঠানোর বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
দুদকের নোটিসে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেই বলে ধরে নেওয়া হবে।
তলবের বিষয়ে সামিট গ্রুপের জনসংযোগ বিভাগ থেকে বলা হয়, তারা এখনও এ ধরনের কোনো নোটিস পাননি। নোটিস পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করা হবে।
একই সঙ্গে সব আইনি বিধান মেনে চলার কথাও বলেছে কোম্পানিটি।
দুদক সূত্র জানায়, সামিট গ্রুপ ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের’ মাধ্যমে ‘বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের’ অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে তাদের আগামী ২৯ জানুয়ারি এবং ১, ২, ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি হাজির হতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন— মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খান, মেয়ে আয়েশা আজিজ, পরিবারের সদস্য ফরিদ খান, সানাদিনা খান, সালমান খান, জাফর উম্মিদ খান, লতিফ খান, ফয়সাল করিম খান, ফারহান করিম, ফাদিয়াহ খান, ফারহানা খান এবং আজহারুল হক।
পাচারের অভিযোগে আজিজ খানের বিরুদ্ধে ২২৬ কোটি টাকা, আঞ্জুমান আজিজ খানের বিরুদ্ধে ৩২ কোটি, ফরিদ খানের বিরুদ্ধে ৭০ কোটি, আয়েশা আজিজের বিরুদ্ধে ২১৯ কোটি, সানাদিনা খানের বিরুদ্ধে ৩৯ কোটি, সালমান খানের বিরুদ্ধে ৩৯ কোটি, জাফর উম্মিদ খানের বিরুদ্ধে ৫২ কোটি, লতিফ খানের বিরুদ্ধে ৬৫ কোটি, ফয়সাল করিম খানের বিরুদ্ধে ৩৭ কোটি, ফারহান করিমের বিরুদ্ধে ৩ কোটি, ফাদিয়াহ খানের বিরুদ্ধে ৩৭ কোটি, ফারহানা খানের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি এবং আজহারুল হকের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ।
দুদকের উপপরিচালক মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি যৌথ দল এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর আজিজ খান, তার স্ত্রী ও মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৭১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
অনুসন্ধানের বরাতে দুদক বলছে, আজিজ খানের নামে ৩৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ১০৯ টাকা, আঞ্জুমান আজিজ খানের নামে প্রায় ৯২ কোটি ৬২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯ টাকা এবং কন্যা আয়েশা আজিজ খানের নামে প্রায় ২৮৭ কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার ৯৬৪ টাকার ‘অস্বাভাবিক সম্পদের’ তথ্য রয়েছে।
আয়কর নথিতে দেখানো সম্পদের মূল্য প্রকৃত সম্পদের তুলনায় কম এবং ঘোষিত আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী তাদের প্রত্যেকের কাছে পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।