image

পল্লবীতে ৪ লাশ উদ্ধার: ঋণগ্রস্ত ছিল না পরিবারটি, ব্যর্থতা ও অভাব ঠেলে দেয় মৃত্যুর দিকে

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

রাজধানীর পল্লবীতে একই পরিবারের চারজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনার নেপথ্য কারণ হিসেবে মানসিক চাপকেই দায়ী করছে স্বজন ও পুলিশ।

শুরুতে ধারণা করা হচ্ছিল ঋণগ্রস্ত হয়ে আত্মহুতির পথ বেছে নিতে পারেন মাসুম ও তার স্ত্রী সুমি। কিন্তু পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে অটোরিকশাচালক মাসুমের জীবনে ধাপে ধাপে দানা বাধা ব্যর্থতার ক্ষোভ ও অভাব অনটনের কাহিনী।

একটু চাপা স্বভাবের মাসুম ছোটবেলা থেকে কর্মঠ হলেও প্রতিদিন ৫০০ টাকার বিনিময়ে ভাড়ায় নেয়া অটোরিকশা চালিয়ে জীবনযুদ্ধের সঙ্গে আর পেরে উঠছিলেন না।

তাইতো কারও কাছে হাত না পেতে নীরবেই দুই সন্তান ও স্ত্রীসহ পরপাড়ে পাড়ি জমিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ পল্লবী থানা পুলিশ ও মৃতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এরআগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর-১১ নম্বর বিহারি ক্যাম্পের ওয়াবদা ৩ নম্বর ভবন থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত ব্যক্তিরা হলেন- মো. মাসুম (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি (৩০), তাদের ৪ বছর বয়সী ছেলে মিনহাজ ও ২ বছর বয়সী ছোট ছেলে আসহাদ। ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল মাসুমের মরদেহ। বিছানায় পড়েছিল তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ।

মৃত মাসুমের মামাতো ভাই শাহ মান্না বলেন, ওদের কোনো ঋণের তথ্য আমরা পাইনি।

তবে মাসুম অভাব অনটনের কারণে অনেক দিন ধরেই হতাশাগ্রস্ত ছিল। আমাদের কিছুই বুঝতে দেয়নি।

বুঝতে দিলে হয়তো এদিন আমাদের দেখতে হতো না।

তিনি আরও বলেন, করোনার পরবর্তী সময়ে মাসুম একটি টেইলার্সের দোকান দিয়েছিল। কিন্তু বেশিদিন সেটি টিকাতে পারেনি। এরপর একটি ভ্যান কিনে বিভিন্ন এলাকায় কাপড় বিক্রি করতো। ওই ব্যবসাও বেশিদিন টেকশই হয়নি। সর্বশেষ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতো।

কিন্তু এই আয় দিয়ে সংসার চলতো না। অনেকদিন ধরেই অভাব অনটনে মানসিক অশান্তিতে ছিল। কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে পৃথিবী থেকে পরিবারসহ বিদায় নিলো। শুক্রবার বাদ এশা মিরপুর সাংবাদিক কলোনির পাশে বায়তুর রহমান জামে মসজিদে জানাজা শেষে কালশী কবরস্থানে তাদের লাশ দাফন করা হয়েছে।

পল্লবী থানার ওসি একেএম আলমগীর জাহান বলেন, আমরা তদন্ত করে কোনো ঋণের তথ্য পায়নি।

তবে তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছিÑ অভাবের কারণে চরম মানসিক চাপে ছিলেন মাসুম ও তার স্ত্রী। দুই সন্তানের দুধ কেনা থেকে শুরু করে সংসারের যাবতীয় খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন মাসুম। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, শিশু দুটিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে সেটি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে শিশু দুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

» পুলিশের ভয়ে ঝিলে ঝাঁপ দিয়ে কিশোরের মৃত্যু

» নারায়ণগঞ্জে বিউটি পার্লার থেকে মরদেহ উদ্ধার

সম্প্রতি