ঢাকার কোতোয়ালি থানার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির কোতোয়ালি থানার এসআই নুরুজ্জামান এ অভিযোগপত্র দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান শনিবার,( ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘গত ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। পরবর্তী বিচারের জন্য গত ২০ জানুয়ারি মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে। আগামী ৩ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।’
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক সচেতনভাবে ও জ্ঞাতসারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও অনুমোদন ব্যতীত ব্যবসায়িক উদ্দেশে বৈদেশিক মুদ্রা নিজ হেফাজতে রাখেন। তারা জব্দ করা বৈদেশিক মুদ্রার বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।’
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ‘২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, নিউমার্কেট থানার হত্যা মামলায় জড়িত আসামি সদরঘাট ২নং মসজিদ সংলগ্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে নিজ হেফাজতে রেখে অবস্থান করছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে হাতে-নাতে আটক হন। পরে তারা তাদের নাম-ঠিকানা জানায়।
‘আটকের পর আসামি আনিসুল হকের কাছে থাকা ব্যাগে ১৭ হাজার ৫৯২ মার্কিন ডলার ও ৭২৬ সিঙ্গাপুর ডলার জব্দ করা হয়। এসময় সালমান এফ রহমানের কাছ থেকে ১২ হাজার ৬২৪ মার্কিন ডলার, ৬২০ সুইস ফ্রাঙ্ক, সাড়ে ৮ হাজার দিরহাম, ১৩ লাখ উজবেকিস্তানে সোম, ১১ হাজার ৬৫০ সৌদি রিয়াল, ৭৭৯ সিঙ্গাপুর ডলার, ১৫০ পাউন্ড, ১৩২১ ইউরো, ৬২৩০ ভুটানের গুলট্রাম, ৩৩২০ থাই বাথ ও ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।’ এ ঘটনায় ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নিউমার্কেট থানার এসআই মো. সজীব মিয়া বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পরে তাদের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় হত্যা মামলা, হত্যা চেষ্টা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় সালমান ও আনিসুলকে দফায় দফায় রিমান্ডেও নেয়া হয়।