দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট ও অচলাবস্থা বন্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপের জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শরণাপন্ন হয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের চারটি প্রভাবশালী বাণিজ্যিক সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিইএফ এবং বিটিএমএ যৌথভাবে একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধান চেয়েছে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বন্দরের এই স্থবিরতা দেশের তৈরি পোশাক খাতসহ সকল প্রধান রপ্তানি শিল্পকে এক অপূরণীয় ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে যখন একটি গণতান্ত্রিক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময়ে অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রটি অচল হয়ে পড়ায় শিল্প ও বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অন্ধকার দেখছেন উদ্যোক্তারা।
এই যৌথ চিঠিতে ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশের ৯৯ শতাংশ কনটেইনার এবং ৭৮ শতাংশ সমুদ্রপথের বাণিজ্য যে বন্দরের ওপর নির্ভরশীল, সেই চট্টগ্রাম বন্দর "রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ" এর ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে আজ পুরোপুরি স্তব্ধ।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পরিচালনার ভার দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদসহ চার দফা দাবিতে রবিবার সকাল ৮টা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এর ফলে বন্দরের জেটিতে ১২টিরও বেশি জাহাজ পণ্য খালাস করতে না পেরে আটকা পড়ে আছে। ফলে প্রতিদিন আমদানিকারকদের গুনতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার "ডেমারেজ চার্জ"। সামনেই পবিত্র রমজান মাস থাকায় শিল্প কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য খালাস না হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সংকটটি কেবল নীতিগত বিরোধেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এখন শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সাংঘর্ষিক রূপ ধারণ করেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বন্দর এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করে ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং তাদের নেতাকর্মীদের তুলে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষের আইনি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। এই জটিল বাস্তবতায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো মনে করে, এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত এই অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে পুরো দেশের অর্থনীতিকে জিম্মি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
চিঠিতে তারা প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে আহ্বান জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেন ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করেন।
আন্তর্জাতিক: সুদানে ড্রোন হামলায় বাস্তুচ্যুত পরিবারের ২৪ জন নিহত