image
ভোটের জন্য টাকা বিতরণের সময় আটক সূত্রাপুর থানা জামায়াত নেতা -সংবাদ

‘ভোটারদের টাকা বিতরণ’ সূত্রাপুরে জামায়াত নেতার কারাদণ্ড

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগের দিন ঢাকা-৬ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে ‘টাকা বিতরণের’ অভিযোগে এক জামায়াত নেতাকে আটকের পর দুদিনের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সিরাজগঞ্জে টাকা বিতরনের সময় এক জামায়াত নেতাকে আটক এবং শরীয়তপুরে জামায়াতের নির্বাচনী অফিসে ভোটারদের মধ্যে বিতরনের জন্য রাখা ৭লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার, (১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টার ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরনের সময় আটক করা হয়েছে সূত্রাপুর থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. হাবিবকে । সূত্রাপুর থানার ওসি মো. মতিউর রহমান জানিয়েছেন, হাবিবের কাছে টাকা পাওয়া গেছে। কত টাকা পাওয়া গেছে, সেই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দিতে পারেননি ওসি।

সিরাজগঞ্জে একজন আটক, শরীয়তপুরে জামায়াত অফিস থেকে টাকা উদ্ধার

ঠাকুরগাঁও জামায়াতের আমির ‘টাকার ব্যাগসহ আটক, ‘অসুস্থ’ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, দলের প্রতিবাদ, মুক্তি দাবি

পুলিশের উপকমিশনার (লালবাগ) মো তারেক মাহমুদ জানান , কিছু ব্যক্তিকে টাকা দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন জামায়াত নেতা হাবিবকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট তাকে দুই দিনের সাজা দেন। আমরা তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে তিনি দাবি করেছেন ‘পোলিং এজেন্টেদের চা-নাস্তা খাওয়ার জন্য’ খামে করে ৫০০ টাকা করে দিচ্ছিলেন।

সিরাজগঞ্জে টাকাসহ জামায়াত কর্মীদের আটক

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে কামারখন্দ উপজেলায় ভোট কেনার অভিযোগ তুলে টাকাসহ জামায়াতের কর্মীদের আটক করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে প্রশাসনের লোকজন আসার পর ওই টাকা ফেরত দেন তাঁরা। জামায়াতের অভিযোগ, নির্বাচনী কেন্দ্রের খরচের টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন বিএনপির কয়েকজন কর্মী। উপজেলার চৌবাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রাম এলাকায় বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান (মধু) বলেন, ‘জামায়াতের লোকজন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট কেনার জন্য এই টাকা নিয়ে মাঠে এসেছিলেন। এ কারণে আমার ছেলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক

কমিটির সদস্য আমির হামজা ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে টাকাসহ তাঁদের হাতেনাতে আটক করেন। তাঁদের কাছ থেকে ৭১ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। পরে প্রশাসনের লোকজন এসে ওই টাকা আবার তাঁদের ফেরত দিয়েছেন।’

এই অভিযোগ অস্বীকার করে কামারখন্দ উপজেলার জামায়াতের নায়েবে আমির আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনী কেন্দ্রের খরচের টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির নেতা হাবিব ও মধুর নেতৃত্বে তাঁদের কর্মীদের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন এবং তাঁদের লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনার ভিডিও তাঁদের কাছে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

শরীয়তপুরে জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ টাকা উদ্ধার

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকার জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় সেখান থেকে আটক ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা এক পোলিং কর্মকর্তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পরে নড়িয়া থানার পুলিশ তাঁকে কারাগারে পাঠান।

দণ্ডপ্রাপ্ত পোলিং কর্মকর্তার নাম গোলাম মোস্তফা। তিনি নড়িয়ার ১২৭ নম্বর হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি উপজেলার পঞ্চপল্লী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস বলেন, নড়িয়া পৌরসভার একটি বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা নির্বাচনী কাজে টাকা বিতরণ করছেন - এমন খবরের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী সেখানে যায়। খবর পেয়ে তিনিও যান। সেখান থেকে টাকা বিতরণের একটি তালিকা, ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক পাওয়া যায়। সেখান থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কার্যালয়ের ভেতরে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে পাওয়া যায়, যিনি একটি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। ওই শিক্ষক সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাঁকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আর টাকা ও অন্যান্য জিনিস জব্দ করা হয়েছে। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই কারাদণ্ড দিয়েছেন।

শরীয়তপুর–২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের মিডিয়া সেলের প্রধান মাসুদ কবির বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় ১৩৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সেই কেন্দ্রে আমাদের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের যাতায়াত, সকাল ও দুপুরের খাবার বাবদ ব্যয় করার জন্য ওই টাকাটি আমাদের কার্যালয়ে রাখা ছিল। সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। অথচ বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে অবৈধভাবে টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল - এমন অভিযোগ আমরা করেছিলাম। সেদিকে নজর না দিয়ে আমাদের দুর্নাম করার জন্য অনিয়মতান্ত্রিকভাবে এ অভিযান চালানো হয়। সেখানে আমাদের অন্যান্য নেতা ও কর্মীদের ওপর বিএনপির সমর্থকরা চড়াও হয়েছেন, যা দুঃখজনক। আমরা এ ঘটনার বিচার চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানাব।’

ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাতে নড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি প্রার্থী সফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতের পক্ষে বিভিন্ন স্থানে টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে আহ্বান জানান, আরও কঠোরভাবে এমন পদক্ষেপ রুখে দেওয়ার জন্য। ভোটারদের ভয়ভীতি ও টাকা দিয়ে প্রভাবিত করা যাবে না।

ঠাকুরগাঁও জামায়াতের আমির ‘টাকার ব্যাগসহ আটক

নির্বাচনের আগেরদিন বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান ‘টাকার ব্যাগ’সহ আটক হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তিনি আটক হন বলে নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান।

বেলাল উদ্দিন ঠাকুরগাঁও শহরের হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম দবিরুল ইসলাম। তিনি ঠাকুরগাঁও সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক।

পুলিশ সুপার বলেন, বেলাল উদ্দিন ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সৈয়দপুর আসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে টাকার পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তিনি বলেছেন, এই টাকাটি তার ব্যবসার কাজের। তবে এখন পর্যন্ত তিনি এই অর্থের উৎসের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।’

পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সৈয়দপুর বিমান বন্দরে আটকের পর অসুস্থবোধ করায় বেলালকে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে টাকাসহ আটক করা হলেও ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরেও বিমানে ওঠার আগে সেই টাকার ব্যাগ শনাক্ত হয়েছিল। কিন্তু পরে কাস্টমসের অনাপত্তিতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তিনি বেলা ১১টার দিকে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে টাকার ব্যাগ নিয়ে সৈয়দপুরে যান।

ঢাকা থেকে যাওয়া যাত্রীর ব্যাগ সৈয়দপুরে ধরা পড়লো, কিন্তু ঢাকার বিমানবন্দরে কেন ধরা পড়লো না, এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ বলেন, ঢাকাতেও তার ব্যাগে টাকা থাকার বিষয়টি ধরা পড়েছিল। বিষয়টি বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে তারা এতে অনাপত্তি জানান। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।

টাকাসহ জামায়াত নেতাকে আটকের বিষয়ে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে জামায়াতের প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ‘আমার পকেটে টাকা আছে, আমাকে ধরতে যাবে কেন। অদ্ভূত প্রশ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করছে, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করছেন। এটা পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের নেতাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কাজটা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তার মুক্তি চাই। অবিলম্বে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক।’

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

সম্প্রতি