আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। গত টানা তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার কারণে এবারের নির্বাচণ নিয়ে জনগণের মধ্যে উৎসব বিরাজ করছে। তবে আছে শঙ্কাও। আর নির্বাচনী উৎসবে, টানা চারদিনের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা অনেকটা জনশূন্য ও শান্ত। কর্মব্যস্ততা আর যানজটের জন্য পরিচিত এই মেগাসিটি এখন অন্যরকম এক রূপ ধারণ করেছে। অফিসগামী মানুষের ভিড় নেই, নেই গণপরিবহনের সেই চিরচেনা হুড়োহুড়ি। ব্যস্তততম এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজধানীর চকবাজার, নিউমার্কেট কিংবা গুলিস্তানও অনেকটা শান্ত। বিপণীবিতান, দোকানপাট বন্ধ থাকলেও রাস্তার পাশে চায়ের দোকেন ছোট আড্ডা জমে উঠেছে। গরম চায়ের কাপে ফুঁ দিতে দিতে হিসেব কষছে দলীয় হার-জিতের। শহরে গণপরিবহনের উপস্থিতি তেমন একটা দেখা না গেলেও, রিক্সা-সিএনজি চলতে দেখা গেছে। তবে তাও আগের যানজটের শহর হিসেবে পরিচিত চেনা সময়ের চেয়ে অনেক কম। এর আগে ঢাকায় এমন দৃশ্য সাধারণত দেখা যায় ঈদের ছুটির সময়।
বুধবার, (১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সকালে রাজধানীর গুলিস্তান, পুরানা পল্টন, শাহবাগ, বাংলামটর ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ঘুরে দেখা গেছে, চিরচেনা যানজট ও হর্ণের উৎকট শব্দ নেই। হাতেগোনা কিছু বাস ও রিকশা চলাচল করলেও তাতে যাত্রী সংখ্যা ছিল খুবই সামান্য। ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না চালকদের।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী গত মঙ্গলবার রাত থেকেই মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকার রাস্তায় মোটরসাইকেল চলতে দেখা যায়নি। তবে বুধবার রাত থেকে আজ রাত পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসি। তবে বুধবার ও দূরপাল্লার বাসে করে ভোট দিতে শহরে ছেড়েছে মানুষ। গুলিস্তানে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সাঙ্গে। তিনি জানান, ভোট দিতে যাচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের শহর সাতক্ষীরা। এর আগের তিন নির্বাচণে ভোট দিতে না পারার কথা জানিয়ে ‘এবার শান্তিপূর্ন পরিবেশে নির্বাচণ’ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তার মতে আরও অনেকেই ভোট দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে, আর শেষ মুহূর্তে যে যার আসনের দিকে ছুটছেন।
চকবাজারে কথা হয় এক হোটেল ব্যবসায়ীর সাঙ্গে। তিনি জানান অধিকাংশ মানুষ ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি গেছেন বলে, দোকনপাট বন্ধ। রাস্তাঘাট ফাঁকা। ভোট দেয়া নিয়ে শঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে ‘এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্তিপূর্ন বলে জানান’।
ঢাকার রাস্তা ফাঁকা থাকার কারণে কেউ কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে বরে হয়েছে। যানজট না থাকায় খুব সহজইে যাতায়াত করা যাচ্ছে বলে ঢাকাবাসীও খুশি। তবে যাত্রী সংকটে অনেকটা অলস সময় পার করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। রমনা বাসস্ট্যান্ডে এক বাসের চেকার জানান, স্বাভাবিক সময়ে বাস কানায় কানায় পূর্ণ থাকলেও আজ প্রতি ট্রিপে ১০ থেকে ১৫ জনের বেশি যাত্রী হচ্ছে না। যাত্রী কম থাকায় পরিবহন শ্রমিকদের আয়েও টান পড়েছে।
রাজধানী ফাঁকা থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
নগর-মহানগর: ফাঁকা ঢাকা, নেই চিরচেনা যানজট-কর্মচঞ্চলতা