image

ভোটগ্রহণ ছিল সুশৃঙ্খল, তবে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে: আনফ্রেল

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (আনফ্রেল)। সংস্থাটি মনে করে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করেছে। তবে নির্বাচনের সার্বিক প্রক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও ভবিষ্যতে ভোট গণনার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে এই বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাটি।

রোববার রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশকালে আনফ্রেলের চেয়ারপারসন রোহানা এন হেতিয়ারাচ্চি এ সব কথা বলেন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। নির্বাচন কমিশনের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের ফলে ভোটের দিন একটি নিরাপদ পরিবেশ বজায় ছিল, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম স্থিতিশীল ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আনফ্রেলের পর্যবেক্ষকরা মাঠ পর্যায়ে দেখেছেন যে অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটদান এবং গণনা প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভোট গণনার সময় ব্যালট বাক্স খোলার ধারাবাহিক নিয়ম অনুসরণে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে।

সংস্থাটি মনে করে, যদিও এই ছোটখাটো ত্রুটিগুলো নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলকে প্রভাবিত করার মতো নয়, তবুও ভবিষ্যতে জনগণের পূর্ণ আস্থা ধরে রাখতে এই অসংগতিগুলো দূর করা প্রয়োজন। এছাড়া নির্বাচনি প্রচারণার ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন রোহানা এন হেতিয়ারাচ্চি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে তরুণ এবং নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে প্রার্থী হিসেবে নারীদের প্রতিনিধিত্ব আশানুরূপ ছিল না এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়ে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংখ্যালঘু এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের কিছু প্রতিবন্ধকতার বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে আসে।

আনফ্রেল মনে করে, নির্বাচনের এই অর্জনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে নির্বাচন পরবর্তী সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

সম্প্রতি