image

তেজগাঁও কলেজের ছাত্র ইকরাম হত্যায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

তিন বছর আগে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন মোল্লা হত্যার ঘটনায় তার দুই বন্ধুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। রোববার,(২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। দণ্ডিতরা হলেন- ইকরামের বন্ধু শান্ত মিয়া ও শান্তর বন্ধু আবু সিদ্দিক।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের এবং লাশ গুমের দায়ে দুইজনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।’ দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শান্ত মিয়া পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সিদ্দিককে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইট-বালুর ব্যবসায় লগ্নির অংশ হিসেবে বন্ধু শান্তকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন ইকরাম। বিনিময়ে প্রতি মাসে তাকে হাত খরচার টাকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘটনার ছয় মাস আগে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে কোনো হাত খরচ পাননি ইকরাম। উল্টো নেশাগ্রস্ত হয়ে ব্যবসার পুঁজি শেষ করে ফেলছিলেন শান্ত।

তার মাদকাসক্ত হওয়ার তথ্য পরিবারকে জানানোয় এবং টাকা চাওয়ায় ইকরামের ওপর ক্ষুব্ধ হন শান্ত। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে শান্ত তার আরেক বন্ধু আবু সিদ্দিককে সঙ্গে নিয়ে ইকরামকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৪ মে ইকরাম বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে পরদিন খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর ৬ মে খিলক্ষেতের পাতিরা বালুর মাঠ এলাকা থেকে ইকরামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একমাত্র ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা কবির হোসেন মোল্লা। তদন্ত শেষে একই বছরের ২৬ নভেম্বর খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক এনামুল হক খন্দকার দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ২৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। এরপর রোববার রায় দেয়া হলো।

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

সম্প্রতি