চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি ভবনের বাসায় জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের নয়জন দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার ভোরে হালিশহর এইচ ব্লকের “হালিমা মঞ্জিল” নামক একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে চারজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আহতদের সবারই শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একজনের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে, অন্য দুজনের শরীরও প্রায় ৮০ থেকে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
এ ছাড়া দগ্ধ তিন শিশুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা না থাকায় এবং রোগীদের জরুরি নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হওয়ায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, হালিমা মঞ্জিলের ওই ফ্ল্যাটটিতে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সংযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল। ভোরে কেউ চুলার সুইচ অন করার সাথে সাথেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো ফ্ল্যাটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ভবনের লিফট ছিঁড়ে গেছে এবং বিভিন্ন তলার দরজা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দগ্ধরা হলেন: শাখাওয়াত হোসেন, মো. শিপন, মো. সুমন, মো. শাওন, মো. আনাস, মো. আইমান, আয়েশা আক্তার, পাখি আক্তার ও রানী আক্তার। বর্তমানে তারা অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার পথে রয়েছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।