রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসন এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।
বুধবার (০৪ মার্চ) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ নারীদের জন্য বিশেষায়িত "বিআরটিসি বাস" চালুর আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছেন।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এই বাসগুলোর চালক থেকে শুরু করে কন্ডাক্টর এবং হেল্পার, সবাই হবেন নারী। এর ফলে গণপরিবহনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নারীদের যে নিরাপত্তা শঙ্কা ও অস্বস্তি ছিল, তা অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নারীদের ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণকে আরও গতিশীল করতে এই বিশেষ বাস সার্ভিসের জন্য প্রেরণাদায়ক স্লোগানও নির্ধারণ করা হয়েছে। "স্বস্তির আরেক নাম, নারীবান্ধব বিআরটিসি বাস" এবং "নারীর পথচলায় ভয়ের শেষ, নিরাপদ বাসেই এগোবে দেশ" এই স্লোগানগুলোর মাধ্যমে মূলত নিরাপদ সড়ক ও উন্নত নাগরিক সেবার এক নতুন বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "নিরাপদ যাত্রা কর্মে গতি, নারীর হাতেও অর্থনৈতিক শক্তি" এবং "নিরাপদ পথচলায় নারী, সমৃদ্ধির দেশ গড়ি" এই দর্শনকে সামনে রেখেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাজধানীর ব্যস্ততম রুটগুলোতে এই সেবা চালু করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী সামাজিক সংস্কার ও নাগরিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে নারীবান্ধব করার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও এর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে এই বাসগুলো চলাচল করবে, যেখানে কেবল নারী যাত্রীরাই আরোহণ করতে পারবেন।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন নারী কর্মজীবীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে সাধারণ নারী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত "নিরাপদ যাত্রা"র অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হবে।