মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও।
তেলের সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর একটি পেট্রোল পাম্পে আকস্মিক পরিদর্শনে যান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
পাম্পের সামনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি দেখে মন্ত্রী সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বর্তমানে আতঙ্কিত হয়ে পাম্পে ভিড় করার কোনো প্রয়োজন নেই এবং খামাখা সময় নষ্ট না করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাই শ্রেয়।
মন্ত্রী পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়ে জানান, যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থায় ভবিষ্যতে টান পড়তে পারে, এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখে এখন থেকেই জ্বালানি সাশ্রয়ী হতে হবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কারো ঘরে যদি এক মণ চাল থাকে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই তা হিসেব করে খরচ করতে হয়। সেই একই নীতি জ্বালানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
এ সময় তিনি পাম্প কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন যেন ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকার বেশি জ্বালানি একবারে না দেওয়া হয়।
মন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে দেশে জ্বালানির যথেষ্ট মজুদ রয়েছে এবং সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে বর্তমানে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর এবং সাধারণ চালকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
অর্থ-বাণিজ্য: ট্রাম্পের আদেশে নেয়া পাল্টা শুল্ক ফেরত দিতে হবে