image

মৃত্যুঝুঁকি কমাতে ৯ সুপারিশ: সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের দাবি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

প্রতি বছর উৎসবের আনন্দ বিষাদে রূপ নেয় সড়কের ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। বিশেষ করে ঈদযাত্রায় মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের বেপরোয়া গতি, মোটরসাইকেলের দাপট আর অসতর্ক পথচারীদের কারণে প্রাণহানির মিছিল দীর্ঘতর হয়।

গত ঈদুল ফিতরের সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র আট দিনের ছুটিতেই ঝরেছে ১৩২টি প্রাণ, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। সড়কে এই বিশৃঙ্খলা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে এবার ঈদুল ফিতরের আগেই ৯ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক নিয়ে কর্মরত একটি বেসরকারি সংস্থার ইয়ুথ ফোরাম এই দাবিগুলো পেশ করে।

সুপারিশের শুরুতেই সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ অনিয়ন্ত্রিত গতি। তাই অনতিবিলম্বে গতি ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ঈদে চালক ও আরোহী উভয়ের জন্যই মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট গাইডলাইন তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ক্লান্তিজনিত কারণে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

সড়ক নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মতে, মহাসড়কে নছিমন, করিমন ও ব্যাটারিচালিত রিকশার মতো ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করা জরুরি। একই সঙ্গে চালক নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে গাড়ি চালাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে কঠোর নজরদারি ও বিধিবিধান প্রয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।

শুধু যানবাহন নয়, পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সুপারিশে উঠে এসেছে। ফুটপাত হকারমুক্ত করা, পথচারীবান্ধব ফুটওভার ব্রিজ তৈরি এবং রাস্তা পারাপারের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার মতো সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যকর আইন ও দায়বদ্ধতার অভাবই দুর্ঘটনার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিশেষে, বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ এর আদলে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই আইন কার্যকর হলে ঈদুল ফিতরসহ যে কোনো উৎসবে মানুষের ঘরে ফেরা নিরাপদ হবে এবং সড়কের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

সম্প্রতি