এ যেন এক ভিন্ন মেলবন্ধন
ঢাকার ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার প্রাঙ্গণ। মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা হয় এখানে। কিন্তু প্রতি বছরে রোজার সময় বিকেলে বদলে যায় এর চিত্র। প্রতিবছর রমজান মাসজুড়ে রোজাদারদের জন্য ইফতার বিতরণ চলে এখানে।
আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই আয়োজন ২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করে আসছে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ।
সংগঠনটির সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসে প্রতিদিন এখানে প্রায় ১৩০ জন রোজাদারের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত মানুষ এলেও তাদের জন্যও আলাদাভাবে খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়, যাতে কেউ খালি হাতে ফিরে না যান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্মজীবী ও স্বল্প আয়ের অনেক মানুষের জন্য এই আয়োজনটি বিশেষ সহায়ক হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবতাবাদী সংঘপুরুষ বিশুদ্ধানন্দ মহাথের ও শুদ্ধানন্দ মহাথের-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি বুদ্ধপ্রিয় মহাথের-এর অনুপ্রেরণায় এবং বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ-যুবের সভাপতি ও সমাজসেবক প্রতাপ বড়ুয়া-এর সহযোগিতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
প্রতাপ বড়ুয়া বলেন, ইসলামের মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ক্ষুধার্ত মানুষকে আহার করানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষা অনুযায়ী, অভুক্ত মানুষকে খাবার খাওয়ানো একটি পুণ্যের কাজ এবং এর মাধ্যমে সওয়াব অর্জন করা যায়। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে সুকুমার বড়ুয়া বলেন, তাদের এই উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বর্তমানে আরও কিছু মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রমজান মাসে ইফতার বিতরণের আয়োজন করছে। তিনি এটিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক সহমর্মিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইফতার নিতে আসা এক নারী জানান, তিনি বহু বছর ধরে এখানে এসে ইফতার গ্রহণ করছেন। তাঁর মতে, এখানে খাবারের মান ভালো এবং কর্মজীবী অনেক মানুষের জন্য এই আয়োজনটি বেশ সহায়ক। কারণ অনেকের পক্ষে প্রতিদিন ইফতার কিনে খাওয়া সম্ভব হয় না।
আয়োজকদের মতে, মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম। সব ধর্মই মানুষের কল্যাণ ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। সেই বিশ্বাস থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই ইফতার বিতরণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এই উদ্যোগের খবর ইতোমধ্যে দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছড়িয়ে পড়েছে।