ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান বিষয়ক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘মব’ হামলার ঘটনায় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ যে যুক্তি তুলে ধরেছে, তা ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন।
শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হকের আদালতে হাজির হয়ে কার্জন অভিযোগ করেন, “অপরাধী গ্রেপ্তার না করে আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ভিকটিম, এর প্রতিকার চাই এবং ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করি।”
মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দুপুরে, যখন ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শিরোনামে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান থেকে কিছু ব্যক্তি হট্টগোল শুরু করে, অংশগ্রহণকারীদের বাধা দেয় এবং কয়েকজনকে মারধর করে।
শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, “অবস্থার সুবিধা নিয়ে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’ ব্যানারকে পুঁজি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করছিলেন। উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও প্ররোচিত করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।”
মামলায় মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ আছে, যাদের মধ্যে আছেন লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক কার্জন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খান, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী, মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।
আদালতে পরিস্থিতি
সকাল সাড়ে ১০টায় আসামিরা আদালতে হাজির করা হয়। তাদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট এবং গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অধ্যাপক কার্জন বলেন, “ভয়াবহ অবস্থা! বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলি?” এরপর পুলিশ তাদের জ্যাকেট খুলে দেয়।
অধ্যাপক কার্জন আদালতকে জানান, “আমরা ভিকটিম। আমাদের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। সংবিধানের আর্টিকেল ৩৩ অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে এবং আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। আমাদের তা দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি সব মিথ্যা।”
লতিফ সিদ্দিকী কাঠগড়ায় হাসিমুখে দাঁড়িয়ে উপস্থিত ছিলেন। আদালতে তিনি জামিন আবেদন করেননি এবং ওকালতনামায় স্বাক্ষরও দেননি।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এদিন বলেন, “আসামিরা ‘মঞ্চ ৭১’ এর জন্মদিনকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। তারা দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হিংস্র পরিকল্পনা করছিল। মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন।”
কাইয়ুম হোসেন নয়ন বলেন, “১৭ বছর ফ্যাসিস্টের সুবিধাভোগী এই ব্যক্তি এখন আদালতে এসে আঙুল তুলে কথা বলে। এরা চোর ও বাটপাট।”
ঘটনার ভিডিও ও ঘটনার প্রমাণ
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে ঘিরে স্লোগান দেয় এবং বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধাদের মারধর করে। এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, “আমরা দলমত না দেখে প্রোগ্রামে এসেছি। কিন্তু হঠাৎ ২০-২৫ জন এসে আমাদের ঘিরে ফেলে।”
অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়ার পর মারধরের শিকার হন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহীল কাইয়ূম এবং কেশব রঞ্জন সরকার।
আদালতের রায় ও জেলহাজতে পরিস্থিতি
শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কার্জন বলেন, “আমরা সন্ত্রাসের শিকার, আমাদের জেলে নিয়ে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার পাইনি। তবে আমরা ইনশাআল্লাহ এই দেশকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে পরিণত করব।”
তিনি সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, “সংবিধান আমাদের রক্ষা করতে হবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধান, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও ৫ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত।”
আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, “গ্রেপ্তারের পর আসামিদের সেখানে ফ্যানও ছিল না, ধুলোবালিতে রাখা হয়েছিল, সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে।”
ডিআরইউ-এর শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠক ‘মঞ্চ ৭১’ আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠান থেকে মূল অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গণফোরামের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তবে একদল ব্যক্তি অনুষ্ঠানকে অশান্ত করে। হামলায় আহত হন বহু অংশগ্রহণকারী। হামলাকারীদের বয়স ২০-৩০, এবং সামাজিক মাধ্যমে তারা জামায়াত ও শিবিরপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান বিষয়ক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘মব’ হামলার ঘটনায় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ যে যুক্তি তুলে ধরেছে, তা ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন।
শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হকের আদালতে হাজির হয়ে কার্জন অভিযোগ করেন, “অপরাধী গ্রেপ্তার না করে আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ভিকটিম, এর প্রতিকার চাই এবং ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করি।”
মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দুপুরে, যখন ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শিরোনামে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান থেকে কিছু ব্যক্তি হট্টগোল শুরু করে, অংশগ্রহণকারীদের বাধা দেয় এবং কয়েকজনকে মারধর করে।
শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, “অবস্থার সুবিধা নিয়ে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’ ব্যানারকে পুঁজি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করছিলেন। উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও প্ররোচিত করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।”
মামলায় মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ আছে, যাদের মধ্যে আছেন লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক কার্জন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খান, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী, মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।
আদালতে পরিস্থিতি
সকাল সাড়ে ১০টায় আসামিরা আদালতে হাজির করা হয়। তাদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট এবং গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অধ্যাপক কার্জন বলেন, “ভয়াবহ অবস্থা! বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলি?” এরপর পুলিশ তাদের জ্যাকেট খুলে দেয়।
অধ্যাপক কার্জন আদালতকে জানান, “আমরা ভিকটিম। আমাদের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। সংবিধানের আর্টিকেল ৩৩ অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে এবং আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। আমাদের তা দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি সব মিথ্যা।”
লতিফ সিদ্দিকী কাঠগড়ায় হাসিমুখে দাঁড়িয়ে উপস্থিত ছিলেন। আদালতে তিনি জামিন আবেদন করেননি এবং ওকালতনামায় স্বাক্ষরও দেননি।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এদিন বলেন, “আসামিরা ‘মঞ্চ ৭১’ এর জন্মদিনকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। তারা দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হিংস্র পরিকল্পনা করছিল। মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন।”
কাইয়ুম হোসেন নয়ন বলেন, “১৭ বছর ফ্যাসিস্টের সুবিধাভোগী এই ব্যক্তি এখন আদালতে এসে আঙুল তুলে কথা বলে। এরা চোর ও বাটপাট।”
ঘটনার ভিডিও ও ঘটনার প্রমাণ
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে ঘিরে স্লোগান দেয় এবং বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধাদের মারধর করে। এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, “আমরা দলমত না দেখে প্রোগ্রামে এসেছি। কিন্তু হঠাৎ ২০-২৫ জন এসে আমাদের ঘিরে ফেলে।”
অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়ার পর মারধরের শিকার হন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহীল কাইয়ূম এবং কেশব রঞ্জন সরকার।
আদালতের রায় ও জেলহাজতে পরিস্থিতি
শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কার্জন বলেন, “আমরা সন্ত্রাসের শিকার, আমাদের জেলে নিয়ে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার পাইনি। তবে আমরা ইনশাআল্লাহ এই দেশকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে পরিণত করব।”
তিনি সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, “সংবিধান আমাদের রক্ষা করতে হবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধান, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও ৫ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত।”
আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, “গ্রেপ্তারের পর আসামিদের সেখানে ফ্যানও ছিল না, ধুলোবালিতে রাখা হয়েছিল, সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে।”
ডিআরইউ-এর শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠক ‘মঞ্চ ৭১’ আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠান থেকে মূল অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গণফোরামের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তবে একদল ব্যক্তি অনুষ্ঠানকে অশান্ত করে। হামলায় আহত হন বহু অংশগ্রহণকারী। হামলাকারীদের বয়স ২০-৩০, এবং সামাজিক মাধ্যমে তারা জামায়াত ও শিবিরপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।