‘এখন ইনকামই কম, যতদিন সরকার (আগামী) গঠন না হবে, ততদিন ইনকামের সন্ধান হবে না’ ‘দাম তো বাড়ার উপরেই আছে’
বুধবার, বেলা দেড়টা। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার কৃষি অধিদপ্তরের পাশে টিসিবির ট্রাকসেলে তখন পণ্য বিক্রি করছিল বিনিময় ট্রেডার্স। বিভিন্ন শ্রেণীপেশার বিভিন্ন বয়সী শত শত নারী-পুরুষ দীর্ঘ কয়েকটি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাজারের চেয়ে কমদামে টিসিবির পণ্য কেনার জন্য।
ট্রাকসেলের পাশেই ট্রাকের লোহারবডির ফাঁক দিয়ে মাথা একটু নিচু করে একজন ভদ্রমহিলা কী যেন দেখছেন। তিনি দেখা শেষ করে যখন ফিরছিলেন তখন তার চোখে চোখ পড়লে একটু ইতস্তত বোধ করেন। এমন করে কী দেখছেন জানতে চাইলে তিনি সংবাদকে বলেন, ‘হাসপাতালে আসছিলাম। ট্রাক দেখে আসলাম। আমার স্বামী বললো যতলোক লাইনে দাঁড়াইছে আজ আর পণ্য পাবানা। তাই এখানে এসে ট্রাকের ভিতর দেখলাম জিনিপত্র আছে কিনা। দেখলাম, তেলের কার্টন দেখা যাচ্ছে। এখন তো আর লাইনে দাঁড়িয়ে পাবনা তাই একটু কয়াবলে পাওয়া যায় কিনা।’
আপনার স্বামী কী করেন? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘একটা কোম্পানিতে চাকরি করেন। ২০ হাজার টাকা বেতন পান। এর আগে একটা কোম্পানিতে চাকরি করছিল, সেখানে এখনকার থেকে বেশি বেতন পাইছিল। কী করবো বাসাভাড়া দিতেই যায় ১৭ হাজার টাকা। এরপর বাচ্চা মানুষ করা, তারপর কত খরচ......।’
টিসিবির এই ট্রাকসেল থেকে পণ্য কিনে বাসার উদ্দেশে ফিরছিলেন রিকশাচালক মো. জহুরল ইসলাম। থাকেন রাজধানী ফার্মগেট এলাকার মনিপুরীপাড়ায়। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি সংবাদকে বলেন, ‘সেই দশটার (সকাল) আগে আইসি (এসেছি) আর এখন বাজে (বেলা) দুইটা। ৪-৫ ঘণ্টা খাড়ায় থাকার পর মাল পাইছি। এই কয়ঘণ্টা ভাড়া মারলে ৪-৫শ’ টাকা হতো।’
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দুই নিটার (২ লিটার সয়াবিন) তেল দুইশো নিলো। আর দোকানে কিনবার গেলে এক নিটারেই নেয় দুইশো টাকা।’
বাজারে পণ্যের দামের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দাম তো বাড়ার উপরেই আছে। সব দোকানেই দাম বেশি। শুধু এখানেই (টিসিবি) কম দামে পাওয়া যায়।
আয়-রোজগারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এখন ইনকামই কম। কামায়ের ঠিক নাই। প্রতিদিন এক সমান হয় না। কোনোদিন ২০০ (টাকা) থাকে আবার কোনোদিন ৩০০। যেমন,
বুধবার সারাদিন কামাই করে গ্যারেজে জমা খরচ দিয়া ২০০ টাকা আনছিলাম।’
এখন ইনকাম কম কেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘যতদিন সরকার (আগামী) গঠন না হবে, ততদিন ইনকামের সন্ধান হবে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে এই স্থানের ট্রাকসেলের বিক্রয়কর্মী সোহাগ সংবাদকে বলেন, ‘টিসিবির গোডাউন থেকে গাড়িতে মাল (পণ্য) ওঠানো শুরু করছি সকাল ৯টায়। ঐখান থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে গাড়ি স্টার্ট করছি। আসতে একটু জ্যামজুমের মধ্যে পড়েছিলাম। ১১টার আগেই এখানে এসে পৌঁছেছি। ৪০০ জনকে দেয়ার মতো পণ্য আনছি। আমরা এখন পর্যন্ত পুরুষ ৬৫ জন, মহিলা ৬৫ জন আর প্রতিবন্ধী ১০ থেকে ১৫ জনের কাছে পণ্য বিক্রি করেছি।
‘ছোলাবুট ২ কেজি, মুসুরডাল ২ কেজি, সয়াবিন তেল ২ লিটার আর খেজুর হাফ কেজি মিলে প্যাকেজ ৬০০ টাকা বিক্রয় করছি,’ বলে জানান সোহাগ।