খিলক্ষেত: শিশুটিকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে, পিটুনি খাওয়া যুবক আটক

ধর্ষণ ও পুলিশের ওপর হামলায় পৃথক মামলা, গ্রেপ্তার ২

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

রাজধানীর খিলক্ষেতে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন চিকিৎসকরা। বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) তার ফরেনসিক টেস্টসহ যাবতীয় টেস্ট করার পর এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে ভালো বলে জানা গেছে।

এদিকে, গণধোলাইয়ের শিকার হওয়া কিশোরটি মারা যায়নি। মঙ্গলবার রাতে থানা পুলিশ মৃত্যুর খবর জানালেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় গভীর রাতে তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায়- রবিউল ওরফে জান মিয়া নামে কিশোরটিকে আটক দেখানো হয়েছে। চলছে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা। হাসপাতাল ছাড়পত্র দিলে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠাবে থানা পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাতেও মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় মোবারক হোসেন সজীব ও ইউসুফ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢামেকের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়ক ডা. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বুধবার সকালে শিশুটির ফরেনসিক, এক্স-রেসহ আরও বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। সেগুলোর রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। তবে এখন শিশুটির অবস্থা ভালো আছে। শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে এটি প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে।

এদিকে, ঘটনাটিতে গণধোলাইয়ের শিকার হওয়া কিশোরটিকেও ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার ভোরে হাসপাতালের ক্যাজুয়েলটি বিভাগের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালটির ক্যাজুয়েলটি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শিশির কুমার ঘোষ বলেন, ওই কিশোরের অবস্থা স্থিতিশীল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে থেঁতলানো জখম আছে। মাথায়ও আঘাত রয়েছে। তবে মাথার ভিতরে কোনো রক্তক্ষরণ হয়নি। হাসপাতালের কাগজে-কলমে তার বয়স দেখানো হয়েছে ১৬ বছর কিন্তু তার স্বজনরা বলছে তার বয়স হবে ১২-১৩। চিকিৎসকরা তাকে অবজারবেশনে রেখেছে। এখনি তার বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব না। অভিযুক্ত কিশোরের খালা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত জান মিয়ার বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে। সেখানে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়তো।

তবে বর্তমানে একটি সেনেটারির দোকানে কাজ করে। তার বাবা জীবিত নেই। মা খিলক্ষেত এলাকায় ফুটপাতে চা-সিগারেট বিক্রি করেন। ৩/৪ মাস আগে ওই কিশোর মাদ্রাসা থেকে খিলক্ষেতে মায়ের কাছে বেড়াতে আসে। এরপর থেকে এখানেই ছিল সে। গত ১০ মার্চ তার মা তাকে খিলক্ষেত এলাকায়ই আমার বাসায় রেখে গ্রামের বাড়িতে যান একটি অনুষ্ঠানে। রাতে কিশোরটিকে মারধরের খবর পান তিনি।

কিশোরের খালা আরও বলেন, রোজার ১০ দিন আগে ওই মেয়ে শিশুটির মামা নয়নের সঙ্গে তার ভাগিনার তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল। আমার ভাগিনাকে সে মারধর করেছিল। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই আমার ভাগিনাকে এভাবে মব সৃষ্টি করে মারধর করেছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

খিলক্ষেত থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত কিশোরকে আটক দেখানো হয়েছে। কারণ কিশোর এখনও ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতাল ছাড়পত্র দিলে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। ওসি বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে উত্তেজিত জনতাকে আসামি করে মামলা করেছে। মামলায় দুইজনকে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া বাকি যারা পুলিশের ওপর হামলা করেছিল তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রিয়াজুল হক জানান, খিলক্ষেতে ধর্ষণের

অভিযোগে আটক যুবককে ছিনিয়ে নিয়ে মারধরে জড়িতদের বিরুদ্ধেও মামলা হবে। আইনানুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মব জাস্টিসের নামে আইন হাতে তুলে নেয়ার সুযোগ নেই। গণপিটুনির শিকার জান মিয়াকে মারধরে জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে আগেই নির্দেশনা দিয়েছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর খিলক্ষেতের মধ্যপাড়া এলাকায় ধর্ষণের অভিযোগে মব সৃষ্টি করে ওই কিশোরকে গণপিটুনি দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এর আগে তাকে আটক করতে গিয়ে হামলার শিকার হয় পুলিশ। এতে থানার ইন্সপেক্টরসহ (তদন্ত) আশিকুর রহমান আশিকসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও র?্যাব মোতায়েন করা হয়।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ: জ্বালানি তেল নিয়ে শঙ্কা, বিকল্প সন্ধানের তাগিদ

» দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত কত?

সম্প্রতি