সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে ও দোয়া করতে ঢল নেমেছে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের। বৃহস্পতিবার,( ০১ জানুয়ারী ২০২৬) দুপুর ১২টার পর জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখ খুলে দেয়া হলে সর্বসাধারণের জন্য কবর জিয়ারতের সুযোগ তৈরি হয়। এদিন দুপুরে কবর জিয়ারত শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার ‘শোকের শক্তিকে’ জাতি বিনির্মাণের কাজে ব্যবহার করতে চায় দল।
খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা সত্যিকার অর্থে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোককে শক্তিতে পরিণত করতে চাই। কিন্তু এটা দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করার মতো এত সংকীর্ণ আমরা নই। তার শোকের শক্তিকে জাতি বিনির্মাণের জন্য ব্যবহার করতে চাই।’
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মনোনয়নের ক্ষেত্রে যেহেতু তিনি আর উপস্থিত নেই, তাই তার মনোনয়নপত্র এমনিতেই বাতিল ঘোষণা করা হবে। সেখানে বিকল্প প্রার্থী দেয়া আছে, চূড়ান্ত বাছাইয়ের পর টিকলে তাদের প্রার্থী করা হবে। নির্বাচন পেছানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাছাই এবং প্রতীক বরাদ্দের পরে হলে আইনি জটিলতার কারণে স্থগিত হতে পারত, কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি নেই।
তারেক রহমান সম্পর্কে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাকে শক্ত মনোবলের অধিকারী হতে হবে, তার কোনো বিকল্প নেই। যত শোকই হোক জাতির স্বার্থে তাকে শক্ত থাকতে হবে।’
সকাল থেকেই রাজধানীর জিয়া উদ্যান এলাকায় মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা জনস্রোতে রূপ নেয়। তবে নিরাপত্তার কারণে বেলা ১১টা পর্যন্ত উদ্যানের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং সামনের সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বাধ্য হয়ে বিজয় সরণিতে ব্যারিকেডের সামনেই অনেককে মোনাজাত করতে ও কান্না করতে দেখা যায়।
সেখানে কর্মরত পুলিশ সদস্য নজরুল জানান, কড়া নির্দেশনা থাকায় কাউকে উদ্যানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। পরে বেলা ১১টার পর সড়কের ব্যারিকেড সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয় এবং দুপুর ১২টার দিকে উদ্যানের প্রবেশমুখ খুলে দেওয়া হয়। এরপর দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ কবর জিয়ারত করতে যান।
গেটের বাইরে এবং বিজয় সরণির ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করতে থাকা সাধারণ মানুষের অনুভূতি জানতে সংবাদ প্রতিবেদকের সঙ্গে অনেকের কথা হয়। তাদের অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন বলে জানান। গাজীপুর থেকে আসা মাহমুদা সুলতানা রুনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না হয়েও কেবল খালেদা জিয়ার টানে ছুটে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম খালেদা জিয়ার কবরের মাটিটা একটু ছুঁয়ে দেখব। তিনি যে কবরে শুয়ে আছেন, সেখানকার মাটি ছুঁয়ে দেখলে কেমন অনুভূতি হয়, তা বুঝতে এসেছিলাম।’ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ভেতরে ঢুকতে না পেরে আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার কাছে ম্যাডামের জন্য দোয়া করব। কিন্তু পারলাম না, তাই এখান (বাইরের সড়ক) থেকেই দোয়া করেছি।’
পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলামও সকালে কবর জিয়ারত করতে এসে বাধার মুখে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমরা তো অভিভাবক হারিয়েছি। কবরটা জিয়ারত করে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ। তাই এখান থেকেই দোয়া করব।’
এছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শাফি ইসলাম শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ছিলেন অনন্য এবং তারেক জিয়ার নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তার নীতি ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। গতকাল বুধবার জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।