কর আদায় ‘৩০ কোটি টাকা কমবে’
দাম কমিয়ে আনতে দেশে উৎপাদিত ফোনের যন্ত্রাংশ ও আমদানি করা মোবাইল ফোনে শুল্ক ছাড় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সুষ্ঠু, নিরাপদ ও ভালো নির্বাচন উপহার দেয়ার আশা
বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় অভিযোগ নিয়ে আলোচনা
জাতীয় নগর নীতির খসড়া অনুমোদন
‘৮৩ শতাংশ হাতে বই’ শিক্ষার্থীদের তুলে দেয়া হয়েছে: আজাদ মজুমদার
‘১৫ জানুয়ারির মধ্যে’ সব বই দেয়া সম্ভব হবে: শফিকুল আলম
ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ও দাবির মধ্যে বৃহস্পতিবার,( ০১ জানুয়ারী ২০২৬) উপদেষ্টা পরিষদের সভায় শুল্ক ছাড়ের এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি কমানো হয়েছে। আগে ছিল ২৫ শতাংশ; এখন দিতে হবে ১০ শতাংশ।’
এর ফলে সরাসরি মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক, অগ্রিম কর ও ভ্যাটের পরিমাণ নামলো ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে, যা আগে ছিল ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। মোবাইল ফোন সংযোজনকারীদের সুবিধা দিয়ে যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্কেও ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘মোবাইল ফোন যারা এখানে ম্যানুফ্যাকচার করেন, তাদের জন্য কাস্টমস ডিউটি যেটা আগে ১০ শতাংশ ছিল, সেটা ৫ শতাংশ করা হয়েছে।’
শুল্ক কমানোর এ সিদ্ধান্তের ফলে যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে এখন ১২ দশমিক ২০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হবে। আগে এই হার ছিল ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ।
প্রেস সচিব বলেন, ‘এর ফলে আশা করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন শিল্প আরও বেশি ব্যাপকতা পাবে। আরও অনেকেই আগ্রহী হবেন বাংলাদেশে মোবাইল ফোন উৎপাদন করতে।’
এনইআইআর চালু
‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার’ বা এনইআইআর পদ্ধতি চালুতে সরকারের উদ্যোগের মধ্যে মোবাইল ফোন আমদানিতে ‘উচ্চ শুল্কের’ বিষয়টি আলোচনায় আসে। কর ফাঁকি বন্ধের পাশাপাশি নিম্নমানের ফোন দেশে ঢোকা বন্ধ করতে গতকাল বুধবার থেকেই সরকার হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে চালু করেছে এনইআইআর পদ্ধতি। এনইআইআর চালু হলে দেশে অবৈধ পথে আসা ফোনগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাবে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা পুরনো মোবাইল ফোনের ব্যবসাও।
মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের এই বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার পর কেবল সরকার অনুমোদিত বৈধ হ্যান্ডসেটই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারবে। তবে এনইআইআর চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নেটওয়ার্কে ব্যবহার হওয়া কোনো ফোন বন্ধ হবে না।
প্রতিবাদ কর্মসূচি
আগের ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন থেকে এনইআইআর চালুর ঘোষণা ছিল, যার প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। গত ৭ ডিসেম্বর বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাও করেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। প্রায় দিনভর সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করেন। পরে এনইআইআর চালুর দিনক্ষণ ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) করার ঘোষণা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত ডিসেম্বর বহুপক্ষীয় বৈঠক করে ডাক ও টেলিযোগাযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। সেই আলাচনার পর ইতোমধ্যে আমদানি হয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্তÍ বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কর কমবে ৩০ কোটি টাকা
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রচুর বিদেশ থেকে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন আনা হয়। এনে কিছুটা রিফার্বিশড (সংস্কার) করে এটা বিক্রি করা হয়। এতে আমাদের ক্রেতা সাধারণ যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হন। সরকারও অনেক ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হয়। তো আশা করা হচ্ছে যে, এর ফলে দেশে আমদানি করা মোবাইল ফোনের যে ব্যবহার এবং যেসব মোবাইল বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়, তাদের চাহিদা বাড়বে এবং এগুলোর দামও কমে আসবে।’
শুল্ক ছাড়ের কারণে প্রাথমিক ধাক্কা হিসাবে সরকারের কম কর আদায় হওয়ার বিষয়ে ধারণা দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘এই যে ব্যবস্থাটা নেয়া হলো, এতে সরকারের ৩০ কোটি টাকার কর আদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটার জন্যতো আমাদেরকে নতুন ট্যাক্সের সংস্থান করতে হবে। সরকার এটা নিয়ে যথেষ্ট আলাপ-আলোচনা করেছে। এমনভাবে ট্যাক্সের হার রাখা হয়েছে, যাতে দেশীয় উৎপাদন খাত উৎসাহ বোধ করে। আবার যারা আমদানি করেন, তারাও যেন একেবারে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’
সব পাঠ্যপুস্তক
নতুন বছরের প্রথম সরকারি স্কুলে বই পৌঁছে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে প্রাথমিকের সব বই দেয়া হলেও মাধ্যমিক ও নি¤œমাধ্যমিকের সব বই এখনও দেয়া যায়নি। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সেসব বই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘১৫ জানুয়ারির (আগামী) মধ্যে সবগুলো পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে পাঠ্যপুস্তকের ১২৩টি ভুল সংশোধন করা হয়েছে।’
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘মোট পাঠ্যপুস্তকের ৮৩ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের তুলে দেয়া হয়েছে। সময়মতো যেন বাকি পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া যায়, সেজন্য সরকার কাজ করছে।’
হজ ব্যবস্থাপনা
আসন্ন হজের বিষয়ে আজাদ মজুমদার বলেন, ‘হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা হজে যাচ্ছে তাদের কাছে থেকে বেশি অভিযোগ নেই। বেসরকারিতে কীভাবে অভিযোগ কমানো যায় সে বিষয়ে কথা হয়েছে।’
রায়ের বাজারে অজ্ঞাত জুলাই যোদ্ধাদের সমাহিত করা হয়েছিল উল্লেখ করে উপ-প্রেস সচিব বলেন, ‘এর মধ্যে আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।’
*পাঁচ দেশের মন্ত্রী*
বিএনপি চেয়াপারসনের জানাজা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘বেগম জিয়ার জানাজায় সার্কের পাঁচ দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের নেতারা এসেছিলেন। এদের মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল ও মালদ্বীপের মন্ত্রীরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।’
তামাক ব্যবহার কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তামাকের কারণে প্রতি বছর ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা যায়। তামাকের ব্যবহার কমাতে সরকার তামাক দ্রব্য আইন তৈরি করেছে। এই আইনের মাধ্যমে উন্মুক্ত জায়গায় তামাক সেবনের হার কমে আসবে।’
*ভালো নির্বাচন*
অন্তর্বর্তী সরকার একটা সুষ্ঠু, নিরাপদ ও ভালো নির্বাচন উপহার দেবে বলে ব্রিফিংয়ে আশা প্রকাশ করেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, ‘গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। সেদিন কোনো বিশৃঙ্খলা দেখিনি। মনোনয়ন যে কম পড়েছে তাও নয়। আশা করছি অন্তর্বর্তী সরকার ভালো নির্বাচন উপহার দেবে। গণভোট নিয়ে ভোটারদের উৎসাহ জাগবে। সে অনুযায়ী যা যা দরকার করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশের ভোটাররা যথেষ্ট সচেতন উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, ‘গণভোটের বিষয় সরকার প্রচারণা চালাচ্ছে। ভোটের গাড়ি সারা দেশে ঘুরছে।’
উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় নগর নীতির খসড়া অনুমোদন হয়েছে বলেও জানান শফিকুল আলম।