ঋণের নামে জনতা ব্যাংকের ২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের’ অভিযোগে সালমান এফ রহমান, তার ভাই সোহেল এফ রহমান এবং তাদের দুই ছেলেসহ ৯৪ জনকে আসামি করে চারটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার,( ০১ জানুয়ারী ২০২৬) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন মামলার অনুমোদনের তথ্য জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি, শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। দেশের শীর্ষস্থানীয় এ শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান তার ভাই সোহেল এফ রহমান। সালমানের ছেলে শায়ান ফজলুর রহমান এবং সোহেলের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানও কোম্পানির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে রয়েছেন।
দুদক বলছে, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে অর্থ পাওয়ার জন্য বেক্সিমকো গ্রুপ ২৪টি কোম্পানি খোলে। এর মধ্যে চারটি কোম্পানির নামে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা নিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চারটি মামলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এর আগে জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের’ অভিযোগে গত নভেম্বরে সালমান এফ রহমান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছিল দুদক। দুদকের নথি অনুযায়ী, প্রথম মামলায় ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে মোট ৪৮ কোটি ৯ লাখ ৭৮ হাজার ডলার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের গড় বিনিময় হার (ডলারপ্রতি ৮৫ টাকা) অনুযায়ী ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
দ্বিতীয় মামলায় পিংক মেকার গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে মোট ৭৯ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬৭৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় মামলায় অ্যাপোলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে মোট ৮৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হচ্ছে। চতুর্থ মামলায় বে সিটি অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে সর্বাধিক ১২৩ কোটি ১ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হচ্ছে।
মামলাগুলোতে বলা হচ্ছে, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা-জালিয়াতির মাধ্যমে’ ঢাকায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসে কয়েকটি ‘নবসৃষ্ট ও অভিজ্ঞতাহীন’ পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে ইডিএফ ও বিবি এলসি সুবিধা অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। পরে এসব কোম্পানি নিজেদের মধ্যে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ‘অ্যাকোমোডেশন বিল’ তৈরি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ‘উত্তোলন ও আত্মসাৎ’ করে।
‘আত্মসাতকৃত’ অর্থ নিজেদের মধ্যে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্তরায়নের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে মামলায়। পাশাপাশি বলা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্বে থেকেও ‘জেনেশুনে’ অনিয়ম অনুমোদন করেছেন, ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ এবং এর একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে।
### ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেড
জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ইডিএফ ও বিবিএলসি সুবিধা নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি, শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান, সালমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং সোহেলের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানকে।
এছাড়া বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী, পরিচালক এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও রীম এইচ শামসুদ্দোহার নাম থাকছে মামলায়। আসামির তালিকায় আরও থাকছেন ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুর রহমান ও পরিচালক আইরিন আখতার।
জনতা ব্যাংকের সাবেক সিইও আব্দুছ ছালাম আজাদ, সাবেক ডেপুটি এমডি আব্দুল জব্বার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. শহিদুল হক, সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক ডিজিএম মো. মমতাজুল ইসলাম ও মো. আব্দুর রহিম, সাবেক এজিএম মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, তৎকালীন ম্যানেজার মো. সালেহ আহমেদ এবং সিনিয়র অফিসার রফিকুল ইসলামকেও এ মামলায় আসামি করা হচ্ছে।
### পিংক মেকার গার্মেন্টস লিমিটেড
পিংক মেকার গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সালমান এফ রহমান, সোহেল এফ রহমান, তাদের দুই ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমানকে আসামি করা হচ্ছে।
বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী, পরিচালক এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও রীম এইচ শামসুদ্দোহার নাম থাকছে মামলায়। আসামির তালিকায় নাম থাকছে পিংক মেকার গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুম্মান মোহাম্মদ ফাহীম খান ও পরিচালক কাজী উম্মে কুলসুম মৈত্রীর। এছাড়া জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. আব্দুর রহিম, শ. ম. মাহাতাব হোসাইন বাদশা, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও মোস্তাফিজুর রহমান তানভীরকে এ মামলায় আসামি করা হচ্ছে।
### অ্যাপোলো অ্যাপারেলস লিমিটেড
অ্যাপোলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হচ্ছে সালমান এফ রহমান, সোহেল এফ রহমান, তাদের দুই ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমানকে।
বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ওসমান কায়সার চৌধুরী, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও রীম এইচ শামসুদ্দোহার নাম থাকছে আসামির তালিকায়। অ্যাপোলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ফরিদুজ্জামান ও পরিচালক কামরুন নাহার নাসিমাও এ মামলার আসামি হচ্ছেন। এছাড়া জনতা ব্যাংকের সাবেক সিইও আব্দুছ ছালাম আজাদ, সাবেক ডেপুটি এমডি ইসমাইল হোসেন, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. শহিদুল হক, মিজানুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সালেহ আহমেদ, মো. মমতাজুল ইসলাম, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, শ. ম. মাহাতাব হোসাইন বাদশা ও মোবারক হোসেনকে এজাহারে আসামি করা হচ্ছে।
### বে সিটি অ্যাপারেলস লিমিটেড
বে সিটি অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে সর্বাধিক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হচ্ছে সালমান এফ রহমান, সোহেল এফ রহমান, তাদের দুই ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমানকে। বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ওসমান কায়সার চৌধুরী, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও রীম এইচ শামসুদ্দোহার নাম থাকছে আসামির তালিকায়। বে সিটি অ্যাপারেলস লিমিটেডের পরিচালক হাসান মাহমুদ সানাউল হক ও নুসরাত হায়দারও এ মামলার আসামি হচ্ছেন। এছাড়া জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আব্দুছ ছালাম আজাদ, আব্দুল জব্বার, মো. শহিদুল হক, মিজানুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সালেহ আহমেদ, মো. মমতাজুল ইসলাম, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির ঢালী, শ. ম. মাহাতাব হোসাইন বাদশা, মো. আব্দুর রহিম, সালাউদ্দিন খান মজলিস, আব্দুর রউফ, আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও মোস্তাফিজুর রহমান তানভীরকে মামলার আসামি করা হচ্ছে।