বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বৃহস্পতিবার,( ০১ জানুয়ারী ২০২৬) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর শোক বইতে নিজের এই মূল্যায়ন লিখেছেন রাজনাথ সিং।
তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
রাজনাথ সিং দুপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পৌঁছালে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাকে স্বাগত জানান। পরে এক এক্স পোস্টে শোকবইতে স্বাক্ষরের ছবি প্রকাশ করে রাজনাথ সিং লেখেন, ‘নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছি। এই শোকের সময়ে তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা রইলো।’
বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ আরেক এক্স পোস্টে লেখেন, ‘নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মহামান্য রাজনাথ সিংকে স্বাগত জানাতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। তিনি ভারতের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন (প্রয়াত) বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।’
ওই পোস্টে রাজনাথ সিংয়ের বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার।
বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়। খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি খালেদা জিয়ার ছেলে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে ভারত সরকারের শোকবার্তা পৌঁছে দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার ছেলে তারেক রহমানকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রস্থান ‘অপূরণীয় শূন্যতা’ সৃষ্টি করলেও তার দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার টিকে থাকবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে আপনার (তারেক রহমান) দক্ষ নেতৃত্বে তার (খালেদা জিয়া) আদর্শ এগিয়ে নেয়া হবে এবং ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে তা পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে যা নতুন সূচনা নিশ্চিত করবে।’