ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪০জন প্রার্থীকে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির এ ঘোষণা দেন।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই বাছাই শেষে ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, ৪ জনের স্থগিত ও ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে অধিকতর বাছাই শেষে বিকেল ৪ টায় স্থগিত করা ৪ প্রার্থীর মনোনয়নও বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। এই নিয়ে মোট ৪০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ও ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল বলে ঘোষণা করা হলো।
*পাচঁটি আসনে বৈধ প্রার্থী যারা*
সদর-বন্দর নিয়ে গঠিত নারাণয়গঞ্জ-৫ আসনে ৯জন প্রার্থীকে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন, বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মুজাদ্দেদী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মাছুম বিল্লাহ, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের এইচএম আমজাদ হোসেন মোল্লা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মন্টু চন্দ্র ঘোষ।
ফতুল্লা ও সদর থানার একাংশ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বৈধ প্রার্থী ৯জন। তারা হলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসাইন কাসেমী, বাংলাাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন, বাসদের সেলিম মাহমুদ, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিশের ইলিয়াস আহম্মেদ ও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. সুলাইমান দেওয়ান।
সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন। তারা হলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বিএনপি মনোনিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোলাম মসীহ্, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস, জনতার দলের আবদুল করিম মুন্সী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. শাহজাহান, আমার বাংলাদেশ পার্টির আরিফুল ইসলাম, ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী।
আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বৈধ প্রার্থী ৬ জন। তারা হলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা-বিভাগীয়) নজরুল ইসলাম আজাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, বাংলাদেশের কউিনিস্ট পার্টির মো. হাফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াস মোল্লা, গণঅধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রাথী মো. আবুল কালাম।
রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ৬জন প্রার্থীকে। তারা হলেন- বিএনপির মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আ. কাইয়ুম শিকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রেহান আফজাল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লার মনোনয়নপত্র।
*যে কারণে ১৬ জনের বাতিল*
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে চার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তাদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় মহানগর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও ব্যবসায়ী আবু জাফর আহমেদ বাবুল, গৃহকর বকেয়া থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা মাকসুদ হোসেন ও অসম্পূর্ণ হলফনামার কারণে গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী মো. নাহিদ হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তাদের মধ্যে অসম্পূর্ণ হলফনামার জন্য কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন ও গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফ ভূইয়া, তিতাস বিল বকেয়া থাকায় জাতীয় পার্টি মো. ছালাউদ্দিন খোকা এবং এক শতাংশ ভোটার স্বাক্ষর যথাযথ না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদর উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মো. সেলিম আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে অসম্পূর্ণ হলফনামা জমা দেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে চার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তাদের মধ্যে ঋণ খেলাপীর জন্য বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. আবু হানিফ হৃদয়, এক শতাংশ ভোটর স্বাক্ষর যথাযথ না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল আউয়াল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিনহাজুর রহমান ও অসম্পূর্ণ হলফনামার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহʼর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলালের এক শতাংশ ভোটর স্বাক্ষর যথাযথ না থাকায় এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান চন্দনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।