image
শাহবাগে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সমাবেশ -সংবাদ

২২ দিনে হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

আগামী ‘২২ কার্যদিবসের’ মধ্যে শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, ‘সরকার আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা (গত ২৫ ডিসেম্বর) ৩০ কার্যদিবস সময় দিয়েছিলাম, আর বাকি আছে ২২ দিন। আমরা ওই কার্যদিবস ধরেই আগাইতেছি।

‘এর মধ্যে যদি সরকার এই খুনের বিচারকাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবো।’ শুক্রবার, (০২ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন তিনি। জাবের বলেন, ‘৭ জানুয়ারির মধ্যে খুন যারা করেছেন শুধু তারা নন, এই খুনের পেছনে যারা রয়েছেন প্রত্যেককে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ইনসাফের আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ফলে অনেকেই মনে করেছে, হাদিকে যদি এখনই হত্যা করা না যায় তাহলে পরবর্তী সময়ে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না, সীমান্তে লাশ ফেলা যাবে না, দিল্লির তাঁবেদারি করা যাবে না। সবকিছু একই সূত্রে গেঁথে তারপর হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।’

জাবের বলেন, হাদি হত্যাকা-ের বিচারের জন্য শনিবার (আজ) তারা সব রাজনৈতিক দলের কাছে যাবেন। ‘যারা বাংলাদেশপন্থি তাদের কাছে যাবো। যারা ভারতের তাঁবেদারি করে, তাদের কাছে যাবো না। যত বাংলাদেশপন্থি সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে, প্রতিটির কাছে যাবো। তাদের কাছে সহযোগিতা চাইবো। তারা সহযোগিতা করলে আলহামদুলিল্লাহ, না করলে আমরা রাজপথে থাকবো।’ এদিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এতে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ‘তুমি কে, আমি কে, হাদি-হাদি’, এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ভারত না বাংলাদেশ, বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এর আগে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে দুপুরে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় ইনকিলাব মঞ্চ। এক ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘শাহবাগ শহীদ হাদি চত্বরে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান করা হচ্ছে।’

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় হামলার শিকার হন হাদি। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়। ৭দিন পর গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এরপর ২১ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে দাফন করা হয়। এরপর থেকে প্রায়ই শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা।

হাদিকে গুলির ঘটনার পর গত ১৪ ডিসেম্বর শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত থেকে সঞ্জয় চিসিম ও সিবিউন দিউকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর ১৬ ডিসেম্বর র‌্যাব-১১ এর একটি দল নরসিংদী সদর মডেল থানা এলাকার তরুয়ার বিলে অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় পানি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করেন। সঞ্জয় ও ফয়সাল স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার পর সিবিউনসহ তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামিরা হলেন- ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, ভাড়ায় প্রাইভেটকার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং মো. ফয়সাল।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» ফুসফুসের জটিলতায় হাসপাতালে ড. কামাল হোসেন

» হাদি হত্যার বিচার করতে ‘বিপ্লবী সরকার’ চাইলেন বোন মাসুমা

» নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, মান্না ও জামায়াত নেতাসহ অনেকের মনোনয়ন বাতিল

» ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও নারী প্রার্থীর হার মাত্র ৪ শতাংশ

সম্প্রতি