স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলাটি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আগামী বুধবার এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হবে বলে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আগামী ৭ জানুয়ারি চূড়ান্ত চার্জশিট দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।"
তিনি আরও বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় যাওয়ার সময় তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ীর গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরে সেদিন রাতেই ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দুদিন পর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।
নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল। যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো কঠোর থাকতে হবে।"
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ভোটকেন্দ্রসহ যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী প্রবেশ করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
আন্দোলনের নামে রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও তিনি জানান।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গুজব প্রতিরোধে আলোচনা
সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখার উদ্দেশ্যে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিহারের বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন।
সীমান্ত, পার্বত্য অঞ্চল ও সাইবার নিরাপত্তা
সভায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি এবং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার বিষয়েও নিবিড় আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "ইতোমধ্যে সীমান্ত ও পার্বত্য এলাকায় নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।"
দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা জোরদার ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গবেষণা ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।