image

গুম কমিশনের প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা প্রত্যাহারের সুপারিশ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

গুম সংক্রান্ত কমিশন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ’অপব্যবহার’ এর কথা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসামরিক গোয়েদা সংস্থা থেকে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। কমিশন র‌্যাব বিলুপ্তিরও সুপারিশ করে।

গুম কমিশনের প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, "দেশের প্রত্যেকটা গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার করতে হবে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ’নাক গলায়’, কারণ তারা ক্ষমতার অংশ হতে চায়।"

তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অপব্যবহারের অভিযোগ করে বলেন, "তাদেরকে অপব্যবহার করা হয়েছে। এস আলমের পক্ষে ডিজিএফআই গিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে। এটা কি ডিজিএফআইয়ের কাজ ছিল? বা মিডিয়া হাউজ দখল করা কি কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআইয়ের কাজ? তাদেরকে নানাভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে।"

"আগের সরকারগুলো এবং ’সদ্য বিদায়ী’ সরকার, সবাই তাদের অপব্যবহার করেছে। তবে ’সদ্য বিদায়ী’ সরকার অনেক বেশি করেছে। সে প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে," যোগ করেন তিনি।

আগের সরকারের সময়ের গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত এ কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশন প্রধান এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "পুলিশের কাজ হচ্ছে দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। আর সেনাবাহিনীর কাজ হচ্ছে ক্যান্টনমেন্টের থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা, নতুন নতুন যুদ্ধ কৌশল রপ্ত করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সেনা কর্মকর্তাদের কাজ নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে তাদের প্রত্যাহার করতে হবে। বরং পুলিশের মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি এলিট ফোর্স গঠন করা যেতে পারে।"

গুম কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কমিশনে দাখিল করা ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগের মধ্য হতে একাধিকবার করা ২৩১টি অভিযোগ এবং যাচাইবাছাই শেষে ’প্রাথমিক তদন্তের’ পর গুমের সংজ্ঞার বহির্ভূত বিবেচনায় ১১৩টি অভিযোগ বাতিল করা হয়। ফলে মোট ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ কমিশনের সক্রিয় বিবেচনায় ছিল, যার মধ্যে ২৫১ জন নিখোঁজ (এখনও পাওয়া যায়নি) এবং ৩৬ জনের গুম পরবর্তী লাশ উদ্ধার হয়।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে কমিশন প্রধান বলেন, "তাদের মধ্যে বেশিরভাগই রাজনৈতিক ব্যক্তি। তাদের শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষাসহ সম্ভাব্য সবরকম বিষয়ে কমিশন সুপারিশ করেছে।"

তিনি বলেন, "রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে এই কাজে যুক্ত করা হয়। তদন্তে মোট ৪০টি ’ডিটেনশন সেন্টার’ (বন্দিশালা) পেয়েছে কমিশন। এর মধ্যে র‌্যাবের ২২ থেকে ২৩টি।"

গুম কমিশন কাজ শুরু করার পর র‌্যাব সবচেয়ে বেশি আলামত ধ্বংস করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» দিলীপ আগরওয়ালার স্ত্রীর জমি, দোকান ও বাণিজ্যিক স্পেস জব্দ

» নির্বাচনের আগে-পরে বন্ধ থাকবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প: ইসি সানাউল্লাহ

» নিবন্ধন শেষ: পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে চান ১৫ লাখ ৩৩ হাজার

» সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈরাজ্য বন্ধে সরকারের উদ্যোগ নেই: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

» ‘অসত্য’ খবর প্রকাশ করলে আদালত অবমাননার দায় নিতে হবে: সুপ্রিম কোর্ট

সম্প্রতি