ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন অন্তত ৩৫০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী; যা মোট বাতিল হওয়া মনোনয়নত্রের প্রায় অর্ধেক।
দলীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি বাতিল জাতীয় পার্টির
দলীয়ভাবে বাতিল
জাতীয় পার্টির ৫৭
ইসলামী আন্দোলনের ৪১
বিএনপির ২৭
জামায়াতের ৯
সিপিবি, এনসিপিসহ অন্যান্য দলেরও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র
বাতিল হয়েছে
মোট বাতিল ৭২৩, আপিলের সুযোগ
আগামী শুক্রবার পর্যন্ত
দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে বর্তমানে বৈধ
প্রার্থী ১৮৪২ জন
দলীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের। এই তালিকায় এরপরে আছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এরপর ক্রমান্বয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান।
এছাড়া সিপিবি, এনসিপিসহ অধিকাংশ দলের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৩ হাজার ৪০৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে জমা দেন ২ হাজার ৫৬৮ জন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জনে।
এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ৪৭৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাইয়ে বাদ পড়েন অন্তত ৩৫০ জন। এই সংখ্যা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রায় ৭৩ শতাংশ বা তিন চতুর্থাংশ এবং বাতিল হওয়া মোট প্রার্থীর ৪৮ শতাংশ বা প্রায় অর্ধেক।
ইসির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সোমবার, (০৫ জানুয়ারী ২০২৬) সংবাদকে বলেন, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী- স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে নিজ আসনে সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। সেই স্বাক্ষর এবং তথ্যের গরমিলের কারণেই বেশিরভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠানো প্রাথমিক তথ্যনুযায়ী- ঋণখেলাপি, করখেলাপি, বিলখেলাপি, মামলার তথ্য গোপন, দ্বৈত নাগরিকত্ব, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর বিবরণী সঠিকভাবে জমা না দেয়াসহ নানা ধরনের জটিলতায় বিএনপির ২৭, জামায়াতের ৯, ইসলামী আন্দোলনের ৪১ ও জাতীয় পার্টির ৫৭ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাতিলের ক্ষেত্রে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
সবেচেয়ে বেশি জাতীয় পার্টির
ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে জাতীয় পার্টির। দলটির ২২৪ জনের মধ্যে ৫৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এখন মাঠে রয়েছেন ১৬৭ জন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪১ জনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় মাঠে রয়েছেন ২২৭ জন।
বিএনপির বাতিল হয়েছে ২৭ জনের মনোনয়নপত্র। এরমধ্যে বেশিরভাগই একই আসনে দলীয় একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এবারের নির্বাচনে বিএনপির ৩৩১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এই দলের ২৭৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এখন দলটির ২৬৭ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। সে সময় বাছাইয়ে বাদ পড়ে ৪২৩ জন।
১ শতাংশের স্বাক্ষরে গরমিল, হলফনামায় অসত্য তথ্য দেয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ না দেয়া, লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকা, মামলার তথ্য গোপন করার কারণে বাদ পড়েন তারা।
আপিল নিষ্পত্তি আগামী
১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যারা আপিল করবেন আগামী ১০-১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি করবে ইসি।
বৈধ প্রার্থীরা চাইলে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা যাবে ২২ জানুয়ারি থেকে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
ব্যালট পেপারের ভোট হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে। ওইদিন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
সারাদেশ: আক্কেলপুরে ভাজা বিক্রেতার আত্মহত্যা