image

নির্বাচনের আগে-পরে বন্ধ থাকবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প: ইসি সানাউল্লাহ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো বন্ধ (সিল) রাখা হবে, যাতে কেউ ঢুকতে কিংবা বের হতে না পারে। মঙ্গলবার, (০৬ জানুয়ারী ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত বন্ধ রাখা জরুরি উল্লেখ করে মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ও সীমান্ত অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে বলে আমাদের ধারণা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক কিছু কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা বিঘিœত করছে। কেউ যদি একটা অস্ত্র সীমান্তের ওপার থেকে এনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢুকিয়ে ফেলে, সহজে এটাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সুতরাং রোহিঙ্গাদের চলাচলে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।’

সানাউল্লাহ বলেন, ভোটের সময় রোহিঙ্গারা যেন কোনোভাবেই মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে না পারে এবং তাদের যেন অপরাধে কেউ ব্যবহার করতে না পারে এজন্য ভোটের আগে ও পরবর্তী কয়েকদিন উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে সিল করে রাখতে হবে।

কোনো গোষ্ঠী বা দলের অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে অভিযানগুলো করবেন, তা মিডিয়ায় দিয়ে দেবেন। কোনো গোষ্ঠী বা দল যদি অপকর্ম করে পার পেয়ে যেতে চায় তাহলে তারা যেন উৎসাহিত বোধ না করে। কারণ, তারা জানবে অপকর্ম করলে ধরা পড়তে হবে এবং এটা জাতীয় বিষয় হয়ে যাবে। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করুক।’

জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র যেগুলো উদ্ধার হয়নি তা উদ্ধার হওয়া জরুরি উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একধরনের গান (অস্ত্র) রানিং হয়। অস্ত্রের একটা সঞ্চালন দেখা দেয়। সন্ত্রাসীদের কদর বেড়ে যায়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ৮৫ শতাংশের কাছাকাছি অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনও আনুমানিক ১৫ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। এগুলো খুঁজে পেতে হবে। শতভাগ খুঁজে পাবেন তা আশা করা যায় না। তবে যারা এগুলো নিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে বা উদ্ধার করতে পারলে মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়বে। এছাড়া হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদের একটি বড় অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। ৭০-৭৫ শতাংশ উদ্ধার করা গেছে। বাকিটা এখনও মাঠে আছে। এসব খুঁজে পেতে হবে।’

নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এ এলাকায় (চট্টগ্রাম) সংখ্যালঘুদের আবাস আছে। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস চালাতে পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

নির্বাচনকে ঘিরে অপতথ্য ও গুজব রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো এবং শেয়ার করা অপরাধ। এক প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা নেই। সবাই ভোট দেয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমদ খাঁন প্রমুখ।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» কারান্তরীণ সাবেক মেয়র আতিক ও স্ত্রী-মেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

» হাদি হত্যার বিচার যাতে না হয় সেই ষড়যন্ত্র চলমান: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

» শিক্ষার্থীদের জনকল্যাণে অবদান রাখার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার

» এবারের নির্বাচন ‘লাইনচ্যুত ট্রেনকে লাইনে তোলার’: ইসি সানাউল্লাহ

» সাবেক ভূমি মন্ত্রীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

» অপারেশন ডেভিল হান্ট: গ্রেপ্তার ২৭ হাজার, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ২৬৮

» ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না বাংলাদেশ: ক্রীড়া উপদেষ্টা

» মনোনয়নপত্র বাতিল: ইসিতে আপিলের আরও ১৩১ আবেদন

সম্প্রতি