বাজুসের সভাপতি এনামুল ও তার স্ত্রীর ১৭ একর জমি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা স্ত্রী সবিতা আগরওয়ালার ঢাকায় একটি বাণিজ্যিক স্পেস, চুয়াডাঙ্গার জমি এবং রাজশাহীর নির্মাণাধীন মার্কেটের দোকান ও জমি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার, (০৬ জানুয়ারী ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এতথ্য জানান।
বিচারকের আদেশে সবিতা আগরওয়ালার জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে আছে চুয়াডাঙ্গা সদরের ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের দশমিক ৪৩৯৭ একর জমি, রাজশাহীর বোয়ালিয়ার থিম ওমর প্লাজায় নির্মাণাধীন মার্কেটের ৩৩ লাখ ৯১ হাজার টাকার দোকান ও জমি এবং ঢাকার রমনায় ৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকার মূল্যের ২৩৯ বর্গফুটের বাণিজ্যিক স্পেস। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন সবিতার এসব সম্পদ জব্দ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ‘সবিতা আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৪৫ কোটি ৭০ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ টাকা মূল্যের স্থাবর অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রাখার অপরাধে মামলা হয়েছে। এছাড়া নিজ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৮টি ব্যাংক হিসাবে ১০৭ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৫১ টাকা জমা ও ১০৬ কোটি ৮ লাখ ২ হাজার ৮৭৬ টাকা উত্তোলনসহ মোট ২১৩ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ লাখ ৯২৭ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করে মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ ‘দুর্নীতি ও ঘুষ’ সংঘটনের মাধামে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশে তা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করার অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়।’ তদন্তে এসেছে আসামি তার নামে থাকা ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর, বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা প্রয়োজন।বাজুসের সভাপতি ও তার স্ত্রীর ১৭ একর জমি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান ও তার স্ত্রী শারমীন খানের ১৭ দশমিক ৬১ একর জমি জব্দ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের নামে থাকা ১২ হাজার শেয়ার, ২টি গাড়ি ও ১৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালক আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ আবেদন দুটি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।
এনামুলের সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৬ দশমিক ৫৮ একর জমি, ১১টি ব্যাংক হিসাব, ১২ হাজার শেয়ার ও ১টি গাড়ি। তার স্ত্রীর সম্পদের মধ্য রয়েছে ১ দশমিক ৩ একর জমি, ৭টি ব্যাংক হিসাব ও ১টি গাড়ি। এনামুল হকের বিরুদ্ধে করা আবেদনে বলা হয়েছে, এনামুল হক খান অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। তিনি ১২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৭২ কোটি ৩১ লাখ টাকা জমা, ৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকা উত্তোলনসহ মোট ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করেছেন। আয়ের উৎস আড়াল করায় এনামুল হক খানের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। দুদকের অন্য আবেদনে বলা হয়েছে, এনামুল হকের স্ত্রী শারমীন খান জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। তিনি ৭টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৫ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
দুটি আবেদনেই বলা হয়েছে, তদন্তের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আসামি তার নামে ও কার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব, সঞ্চয়ী হিসাব, এফডিআরসহ অন্যান্য হিসাবের অর্থ এবং স্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তির পূর্বে সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেজন্য তাদের সম্পদগুলো জব্দ ও অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।