image
সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে গুলশানে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় -সংবাদ

প্রতিবাদী সমাবেশে বক্তারা, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা বন্ধ করতে হবে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেছেন, কোনো সরকার সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধ করতে পারছে না। ভারত শুধু সীমান্ত হত্যার সঙ্গেই জড়িত নয়, তারা এ দেশের মানুষকে গুমের সঙ্গেও জড়িত। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধ করতে হবে, জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করতে হবে।

বুধবার, (০৭ জানুয়ারী ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদী সমাবেশে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এ কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ-ভারত রক্তাক্ত সীমান্ত’ শীর্ষক এই সমাবেশের আয়োজক মানবাধিকার সংস্থা অধিকার। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন। সমাবেশে ফেলানীসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্কৃক হত্যা, নির্যাতন, গুম, পুশইনের বিচার দাবি করা হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্যবাদ রুখে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ১৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী। তার লাশ অন্তত পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিল। সেই ছবি দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সমালোচনার ঝড় উঠে।

সমাবেশে অধিকারের পরিচালক তাসকিন ফাহমিদা বলেন, ভারত শুধু সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যাই করছে না, তারা বাংলাদেশের খুনি-অপরাধীদেরও আশ্রয় দিচ্ছে। সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক হত্যা বন্ধ করতে হবে। এসব হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে হবে। বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও সীমান্তের বাসিন্দা জয়ন্ত। এই কিশোর ভারতে থাকা তার নানা-নানির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। সমাবেশে জয়ন্তের বাবা মহাদেব বলেন, তার ছেলে কাউকে না জানিয়ে নানা-নানির সঙ্গে দেখা করতে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে তিনি ছেলেকে ফেরাতে সীমান্তে চলে যান। গিয়ে দেখেন, ছেলেকে গুলি করে ফেলে রেখেছে বিএসএফ। ছেলের লাশের কাছে গেলে তার পায়েও গুলি করা হয়।

বিগত সরকারের আমলে গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরাও সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন। ২০২৩ সালে ধামরাই থেকে গুমের শিকার হয়েছিলেন রহমতুল্লাহ নামের এক যুবক। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট র?্যাব তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তার দুই হাত ও দুই চোখ বেঁধে তাকে তিন হাতের একটি ঘরে ৯ মাস আটকে রাখা হয়েছিল। দেশে ৯ মাস গুম করে রাখার পর তাকে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ভারতের কারাগারে সাড়ে ৭ মাস বন্দী থাকার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।

প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, জাতীয় গণফোরামের নেতা কামরুজ্জামান ফিরোজ, স্ব প্রাণ নামের সংগঠনের পরিচালক জারিফ রহমান, গুমের শিকার মো. বাতেনের স্ত্রী নাসরিন জাহান স্মৃতি ও ফিরোজ খানের স্ত্রী আমেনা আক্তার বৃষ্টি।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» ডেঙ্গু: ডেঙ্গুতে আরও ৩৫ জন হাসপাতালে

» দীপু চন্দ্র দাস হত্যা: লাশ পোড়ানোয় নেতৃত্বদানকারী ইয়াসিন গ্রেপ্তার

» ‘টাকা আত্মসাৎ’: সালমান রহমান, ভাই ও ছেলেদের বিরুদ্ধে আরও মামলা

» ‘ঋণ জালিয়াতি’: ওরিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

» ২৯৫ ওষুধ ‘অত্যাবশ্যকীয়’, দাম বেঁধে দেবে সরকার, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত

সম্প্রতি