কমিশন বৃদ্ধি, বিইআরসির একতরফা দাম ঘোষণা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
কমিশন বৃদ্ধি, হয়রানি বন্ধ, নতুন করে
মূল্য সমন্বয়ের দাবি
সাড়ে ৫ কোটি
সিলিন্ডার, রিফিল হচ্ছে ‘সোয়া কোটি’
দাবি মান না হলে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপি গ্যাস সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। বুধবার, (০৭ জানুয়ারী ২০২৬) ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান বলেন, ‘২৭টি কোম্পানির সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার বাজারজাত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল (পুনরায় গ্যাস ভরা) হচ্ছে।’ বাকি ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার ‘খালি পড়ে আছে।’
তিনি বলেন, “অধিকাংশ সিলিন্ডার খালি থাকায় পরিবেশকদের খরচ বেড়ে গেছে। বাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির এটি অন্যতম কারণ। বেশির ভাগ কোম্পানি বন্ধ, তাই তাদের পরিবেশকেরা দেউলিয়া হওয়ার পথে। পড়ে থাকা সিলিন্ডারে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।’
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে নতুন করে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে হবে। প্রশাসন দিয়ে পরিবেশকদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে।
প্রসঙ্গত, প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করে বিইআরসি। সর্বশেষ ৪ জানুয়ারি নতুন মূল্য ঘোষণা করে কমিশন। এ নিয়ে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘বিইআরসি পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই মূল্য সমন্বয় করেছে। এলপিজির সংকট দূর করায় জোর না দিয়ে বাড়তি দাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার অভিযান চালিয়ে আতঙ্ক তৈরি করছে। এতে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।’
বক্তব্যে বলা হয়, জ্বালানি বিভাগ, বিইআরসি ও এলপিজি কোম্পানি মিলে আমদানি সমস্যা দূর করা ছিল সঠিক সমাধান। তা না করে অভিযান চালিয়ে পরিবেশকদের হয়রানি করা হচ্ছে। পরিবেশক কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করার দাবি জানিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি। এলপি গ্যাস বহনকারী গাড়িতে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা, ভোক্তা অধিকার কর্তৃক চলামান অভিযান বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ, অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশিসহ অন্য নেতারা।
আবাসিকে রান্নায় বেশি ব্যবহৃত হয় বেসরকারি পর্যায়ের ১২ কেজি এলপি গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার। পাইপলাইনের গ্যাস না পেয়ে অধিকাংশ রেস্টুরেন্টও এখন রান্না করতে এই গ্যাস ব্যবহার করে।
জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। তবে বাজারে এই পরিমাণ গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। চলমান মোবাইল কোর্টের অভিযানের ভয়ে গ্যাস বিক্রি বন্ধ রেখেছেন অনেক বিক্রেতা।
এদিকে এলপি গ্যাসের দামে কারসাজির দায় খুচরা বিক্রেতাদের ওপর চাপিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। জড়িত বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে তারা।