image

‘টাকা আত্মসাৎ’: সালমান রহমান, ভাই ও ছেলেদের বিরুদ্ধে আরও মামলা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ১৩৬ কোটি টাকা নিয়ে ‘আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের’ অভিযোগে সালমান এফ রহমান, তার ভাই ও তাদের দুই ছেলের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় তাদের সঙ্গে জনতা ব্যাংকের সাবেক দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আব্দুছ ছালাম ও আব্দুল জব্বারসহ মোট ২২ জনকে আসামি করবে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার,( ০৮ জানুয়ারী ২০২৬) মামলাটির অনুমোদন দেয়ার তথ্য সাংবাদিকদের জানান দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। নতুন এ মামলায় সালমানের ভাই সোহেল এফ রহমান এবং তার ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানকে আসামি করা হবে। একই সঙ্গে সোহেল রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানও হবেন আসামি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

এছাড়া এ মামলায় বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক রীম ও এইচ শামসুদ্দোহা এবং এমডি ওসমান কায়সার চৌধুরীকেও আসামি করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। এর আগে জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে গত নভেম্বরে সালমান রহমান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করে দুদক।

আর সর্বশেষ গত সোমবার ঋণের নামে জনতা ব্যাংকের আরও ২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সালমান রহমান, তার ভাই ও দুই ছেলেসহ ৯৪ জনকে আসামি করে আরও চারটি মামলা করে দুদক। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের গ্রাহক কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেডের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ বিভিন্ন ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করেন। পরে নিজেদের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ভুয়া অ্যাকোমডেশন বিল তৈরি করে এলসির মাধ্যমে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ করে।

দুদক বলছে, কোজি এপারেলস লিমিটেড একটি নবগঠিত প্রতিষ্ঠান এবং এর পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। সংস্থাটি বলছে, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে এ ঋণ নিতে বেক্সিমকো গ্রুপ ২৪টি প্রতিষ্ঠান খুলেছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান রহমান বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। গ্রুপটির চেয়ারম্যান তার ভাই সোহেল রহমান। সালমানের ছেলে শায়ান এবং সোহেলের ছেলে শাহরিয়ারও গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে রয়েছেন।

‘১৩৬ কোটি টাকা আত্মসাতের’ অভিযোগের এ মামলায় আরও আসামি করা হবে জনতা ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক উপ-ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, শাজাহান ও মো. হুমায়ুন কবীর ঢালী এবং সাবেক ম্যানেজার শ. ম. মাহাতাব হোসেন।

এছাড়া কোজি অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান খান, পরিচালক সৈয়দ তানভীর এলাহী, ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ ও পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে রাখা হবে আসামির তালিকায়। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(ক) ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এর ৪ ধারায় অভিযোগ আনবে দুদক।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি