কাটেনি এলপিজি সিলিন্ডার সংকট, স্বল্পচাপে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বাসাবাড়িতে

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি বন্ধ করতে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এরপরও এলপিজি সংকট কাটছে না। বাজারে এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি আছে। অন্যদিকে গ্যাসলাইনে যথার্থ চাপ না থাকায় রাজধানীতে বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়িতে রান্না-বান্নায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

দিন কয়েক আগে এলপিজি সরবরাহকারী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট ডাকার পর সারাদেশে এলপি গ্যাসের চরম সংকট দেখা দিলে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু সরকার ও বিভিন্ন মহলের চাপে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। কিন্তু ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও বাজারে এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। অন্যদিকে এমন সমস্যার পাশাপাশি তিতাসের গ্যাসের সরবরাহ লাইনে চাপ কম থাকায় বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ ঠিকমতো পাচ্ছে না ব্যবহারকারীরা। এ নিয়ে গত দুদিন ধরে চলছে অসহনীয় দুর্ভোগ।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় বুধবার রাতে। ঢাকা, গাজীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ থাকে। চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরেও এলপিজির সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। রাজধানীর শেওড়াপাড়ার সাজিয়া আফরিন বলেন, গত বুধবার রাতে এলপিজি শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সব দোকান বন্ধ। না পেয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে।

আমদানি বাড়াতে এলপিজি কোম্পানির দাবি পূরণে ইতোমধ্যে ৫ দফা উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে কয়েকটি কোম্পানি। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন লাগতে পারে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্র বলছে, গত বছর অধিকাংশ কোম্পানি এলপিজি আমদানি করেনি। মূলত পাঁচটি কোম্পানি সিংহভাগ আমদানি করেছে। আরও ৫-৬টি কোম্পানি কিছু কিছু আমদানি করেছে। মোট আমদানি হয়েছে সাড়ে ১৮ লাখ টন। একই বছরে বিক্রি হয়েছে এর চেয়ে বেশি। আগের বছর আনা এলপিজিও বিক্রি হয়েছে।

সরবরাহ কম থাকার সুযোগে ১ হাজার ৩০৬ টাকার এলপিজির সিলিন্ডার আড়াই হাজার টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। বেশি দাম দিয়েও এলপিজি পাচ্ছেন না কেউ কেউ। অনেকে বিদ্যুৎ-চালিত চুলা কিনে রান্নার কাজ সারছেন। দুই সপ্তাহ ধরে এমন পরিস্থিতি চলছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গত রোববার এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে জ্বালানি বিভাগ। আমদানিকারকরা বলছেন, এলপিজি আমদানি করে মজুত রাখার তেমন সুযোগ নেই। বিশ্ববাজারে দাম নিয়মিত ওঠানামা করে। মজুত করলে বাড়তি মুনাফার সঙ্গে বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকিও থাকে। তাই প্রতি মাসের চাহিদা হিসাব করেই এলপিজি কেনা হয়।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, এলপিজির চলমান সংকট নিরসনে পাঁচটি উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। শুল্ক কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এলসি (ঋণপত্র খোলা) সহজ করতে বাংলাদেশ র‌্যংককে অনুরোধ করে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাঁচটি কোম্পানিকে বাড়তি আমদানির অনুমতি দিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এতে এলপিজির আমদানি বেড়ে বাজারে সরবরাহ সংকট কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে ঋণপ্রাপ্তির আবেদন ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করে শুক্রবার, (০৯ জানুয়ারী ২০২৬) বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। একই দিনে সবুজ জ্বালানি বিবেচনায় এলপিজি-সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ভ্যাট কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর উৎপাদন পর্যায়ে (সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার প্ল্যান্ট) সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

আমদানির সীমা বৃদ্ধির জন্য ওমেরা, মেঘনা, যমুনা, ইউনাইটেড আই গ্যাস ও ডেল্টা থেকে পাওয়া আবেদনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি দিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে বিইআরসিকে অনুরোধ করা হয়েছে। এর বাইরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে যে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রিসভা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। অপারেটরদের আমদানি করা এলপিজির প্রকৃত চিত্র জানার জন্য চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরসংলগ্ন স্টোরেজ পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অফিস আদেশ প্রদান করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, যাতে এলপিজির আমদানি ও ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৃত অবস্থা জানা যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিইআরসির সঙ্গে বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে নেতারা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন- সারাদেশে চলমান প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ করা, বিতরণকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বৃদ্ধি করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।

ঢাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ

এলপিজি সিলিন্ডার সংকটের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। গ্যাসের এই সংকটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরবাসী, সারাদিন গ্যাস থাকে না। অনেক বাড়িতে মধ্যরাত পর্যন্ত গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকে। অনেক বাসায় মধ্যরাতের দিকে গ্যাস পাওয়া যায়। লাইন দিয়ে সেই গ্যাসে রান্না করতে হয়। স্বল্প আয়ে সংসার চলে যাদের তাদের বিকল্প ব্যবস্থার উপায় নেই। ফলে চরম দুর্ভোগ নিয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ঢাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ থাকার কথা জানায়। বিজ্ঞপ্তিটি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ফেইসবুক পেইজে দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হয়েছে। তবে মেরামতকালে পাইপে পানি প্রবেশ করে। এছাড়া ঢাকা শহরে গ্যাসের সরবরাহ কম আছে। এ কারণে ঢাকা মহানগরীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলেছে, গ্যাসের স্বল্পচাপের এই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» মায়ানমারে সংঘর্ষ: নাফ নদীতে জেলে গুলিবিদ্ধ, সীমান্তে সতর্কতা

» প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন ইসির

» ভ্রমণ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের আহ্বান

» চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের ‘২৯০ ভরি’ স্বর্ণ উদ্ধার, সাবেক পুলিশ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬

» মনোনয়নপত্র: এবার ৬৪০ আপিল আবেদন, আজ শুনানি শুরু

সম্প্রতি