চট্টগ্রাম নগরীতে স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাকরিচ্যুত এক পুলিশ সদস্যসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার এবং ‘২৯০ ভরি’ স্বর্ণ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। ৪ দিন আগে গত রোববার ভোরে নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় ‘৩৫০ ভরি’ ওজনের স্বর্ণের বার ছিনতাই হয়। ছিনতাইয়ের স্বর্ণের একটি অংশ উদ্ধার ও ৬ জনকে গ্রেপ্তারের এ তথ্য শুক্রবার, (০৯ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ৬ জন হলেন- চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র দাশ (৪২) ও তার স্ত্রী পান্না দাশ (৩৮), মো. মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম ইমন (২২), সুমনের চাচাতো ভাই রবি চন্দ্র দাশ (৪০) ও তথ্যদাতা বিবেক বণিক (৪২)।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, সবুজ দেবনাথ নামে এক স্বর্ণকার তার সহযোগীসহ ৩৫০ ভরি ওজনের ৩৫টি স্বর্ণের বার নিয়ে নগরীর সাবেরিয়া থেকে অক্সিজেন যাচ্ছিলেন। আতুরার ডিপো এলাকায় দুইটি বাইকে করে আসা চার ব্যক্তি অটোরিকশা আটকে তাদের মারধর করে স্বর্ণের বারগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ দেয়ার পর পুলিশের তদন্ত শুরুর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। এ দলটি গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাশিমপুরের মাধবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন, ইমন ও বাইক বাবুকে গ্রেপ্তার করে। ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি বাইকও জব্দ করা হয়।
আমিরুল ইসলাম বলেন, ছিনতাই করা স্বর্ণের বারগুলো সুমনের স্ত্রী পান্না ও চাচাতো ভাই রবি দাশের হেফাজতে রয়েছে জানার পর সেদিন বিকেলে ঢাকার রায়েরবাজার এলাকা থেকে রবি দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পান্নাকে। ‘তাদের দেয়া তথ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুরে রবির বোনের বাসা থেকে ২৯টি বার উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-কমিশনার (উত্তর) হামিদুর রহমান বলেন, ছিনতাইয়ের নেতৃত্বে থাকা সুমন পুলিশের এএসআই ছিলেন। আগেও তিনি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এ কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. আব্দুল করিম বলেন, ছিনতাইয়ের শিকার সবুজ দেবনাথ নগরীর হাজারী লেইনের কৃষ্ণ চন্দ্র কর্মকার নামে একজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী। সবুজসহ তিনজন ওই দোকানের ৩৫টি স্বর্ণের বার নিয়ে নগরীর সাবেরিয়া থেকে অটোরিকশায় করে বায়েজিদ বোস্তামি যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন।
গ্রেপ্তার হওয়া বিবেক ও সবুজ এক দোকানে কাজ করতেন জানিয়ে ওসি বলেন, ‘সাবেক এএসআই সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বিবেকের। বিবেক তাকে তথ্য দেন যে, তাদের দোকানের একজন কর্মচারী স্বর্নের বার নিয়ে যাবে। এরপর সুমন ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনা সাজান।’ এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন পলাতক, তাকে গ্রেপ্তার ও বাকি স্বর্ণগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।