মার্কিন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যবিষয়ক দূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এ আহ্বান জানান বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে।
ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশসহ নতুন কয়েকটি দেশের নাম যুক্ত করে গত মঙ্গলবার হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এই তালিকায় নাম ওঠার মানে হলো- বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তি যদি বি১/বি২ ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করতে তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার বন্ড বা জামানত দিতে হবে। শুক্রবার, (০৯ জানুয়ারী ২০২৬) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে।’ এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরকে (ইউএসটিআর)। দূত গ্রিয়ার এ প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার বিষয়ে সম্মতি দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রেও বাড়তি শুল্ক কমানো বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দেন জেমিসন গ্রিয়ার। বাড়তি শুল্ক চুক্তি যাতে দ্রুত চূড়ান্ত ও কার্যকর করা যায়, সেজন্য বৈঠকে কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।’ তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনের (ডিএফসি) তহবিলে প্রবেশাধিকার দেয়ার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে দূত গ্রিয়ার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম । অন্যদিকে ইউএসটিআরের পক্ষে সহকারী প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তা উপদেষ্টা সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেন। খলিলুর রহমান শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তালিকায় বাংলাদেশের থাকা ‘অস্বাভাবিক না’: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা পেতে যেসব দেশের নাগরিকদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘বন্ড’ দিতে হবে, সেই তালিকায় বাংলাদেশের থাকাকে ‘অস্বাভাবিক’ মনে করছেন না পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই দুঃখজনক, অবশ্যই কষ্টকর আমাদের জন্য। কিন্তু এটা অস্বাভাবিক না।’
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় উপদেষ্টা বলেন, ‘আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় না, অনেক দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। কোন দেশগুলো আছে যাদের ইমিগ্রেশন নিয়ে প্রবলেম আছে। আপনারা আমেরিকানদের পরিসংখ্যান দেখেছেন যে, যারা ওখানে ওদের সোশ্যাল সিস্টেম থেকে এভাবে গিয়ে পয়সা নেয়, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক। তাহলে তারা যদি কিছু দেশের ওপর এরকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, সেটার মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে, এটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।’ ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশসহ নতুন কয়েকটি দেশের নাম যুক্ত করে গত মঙ্গলবার হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ হালনাগাদের পর মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকরা এই ভিসা বন্ডের শর্তের আওতায় এসেছেন। বাংলাদেশসহ নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে জামানতের নিয়ম কার্যকর হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে। এই তালিকায় নাম ওঠার মানে হলো, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তি যদি বি১/বি২ ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করতে তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার বন্ড বা জামানত দিতে হবে। কারও ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জামানত ধার্য হলে বর্তমান বিনিময় হারে তাকে গুনতে হবে প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।