প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে তা নির্ধারণ করে দিতেই এবারের গণভোট।
দেশজুড়ে গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ রবিবার বরিশালের বেলস পার্কে বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এ কথা বলেন।
বরিশাল বিভাগের কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচির প্রথম দিনে আজ বরিশাল বিভাগের ইমামদের নিয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত বারো শতাধিক ইমাম সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে আসন্ন গণভোটে সরকারের প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, অনেক সংগ্রামের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলাদেশের প্রকৃত মালিক দেশের জনগণ। গণভোটের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথরেখা তৈরি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দেশ কীভাবে চালাবেন, এই গণভোটের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করে দেওয়ার সুযোগ সবাইকে কাজে লাগাতে হবে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছি যেখানে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। কিন্তু বিগত চুয়ান্ন বছরেও আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারিনি। তিনি বলেন, গত ষোল বছরের ফ্যাসিস্ট শাসন, অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে এটুকু পরিষ্কার যে, এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া আমরা এগিয়ে যেতে পারব না।
প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, আমরা যে যার ইচ্ছামতো পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব; কিন্তু আগামীর দেশটা কেমন হবে তা নিয়ে আমাদের একমত হতে হবে। গণভোট নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে আমরা যেমন প্রার্থী নির্বাচন করি, তেমনি গণভোটে অংশ নিয়ে জুলাই সনদের ভিত্তিতে দেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাব।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ একটি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে গণভোটে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার অংশ নেওয়া ইমামদের উদ্দেশে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা এক খুনি মাফিয়াকে দেশ থেকে বিতাড়িত করে দেশের মালিকানা পুনরুদ্ধারে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। আসন্ন গণভোট দেশ গড়ার পথে পরবর্তী বড় ধাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই গণভোট ব্যর্থ হলে সেই খুনি মাফিয়া আবার ফিরে আসবে। সুতরাং সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণভোট সফল করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্টরা লুটের টাকায় অপপ্রচারের মাধ্যমে গণভোট নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আলেম সমাজকে সত্য তথ্য তুলে ধরে ভোটারদের সংশয় দূর করতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আলেমগণ গত ষোল বছরে অনেক অত্যাচার ও জুলুমের শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার দেশ কেমন হবে তা নির্ধারণের সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন গণভোটে দেশের আলেম সমাজ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবেন।
বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুল নিজামী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বরিশালের পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।