তীব্র শীতের মধ্যেও ডেঙ্গুতে আরও ৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে পহেলা জানুয়ারি থেকে রোববার, (১১ জানুয়ারী ২০২৬) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৫৭৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে চলতি বছরের রোববার পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯ জন, ঢাকা বিভাগে ১২ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ভর্তিকৃতদের মধ্যে ৫ বছর বয়সের ৪ শিশু, ৬-১০ বছর বয়সের ৩ শিশু, ১১-১৫ বছর বয়সের ৪ জন, ১৬-২০ বছর বয়সের ১০ জন, ২১-২৫ বছর বয়সের ২ জন, ২৫-৩০ বছর বয়সের ৬ জন, ৬৬-৭০ বছর বয়সের ১ জন, ৫৬-৬০ বছর বয়সের ২ জন রয়েছে। এভাবে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কবিরুল বাশার তার এক প্রতিবেদনে বলেছেন, বছরজুড়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উপদ্রব বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শীতে উপদ্রব কিছুটা কমলেও পুরোপুরি কমবে না। আবার বাড়তে শুরু করবে। তাই বছরজুড়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পুরোপুরি মশা নিধন জরুরি হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে পৃথিবীর বহু মানুষ ডেঙ্গু ঝুঁকিতে আছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান আবহাওয়া ও জলবায়ু মশা প্রজননের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মশার ঘনত্ব ও প্রজাতির বৈচিত্র্য বেশি থাকার কারণে মশাবাহিত রোগশোকের ঝুঁকিও অনেক বেশি বাংলাদেশে।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১২৬ প্রজাতির মশা শনাক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ঢাকায় ১৪/১৬ প্রজাতির মশা রয়েছে। দেশে মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ অ্যানসেফালাইটিস রয়েছে। শীতে এডিস মশা কিছুটা কমলেও কিউলেক্স মশার উপদ্রব বাড়ছে।
ঢাকায় প্রথম ডেঙ্গু দেখা দেয় ১৯৬৩ সালে। তখন এটিকে ঢাকা ফিভার হিসেবে চিহ্নিত বা নাম দেয়া হয়েছিল। ডেঙ্গুর প্রথম আউটব্রেক হয় ২০০০ সালে। তখন বিজ্ঞানীরা একে ডেঙ্গু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওই সময় থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর শিশু থেকে বয়স্ক অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছেন, আবার মারাও যাচ্ছেন।