জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে গণভোট হবে, তাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারই প্রচার চালাবে। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম। প্রেস সচিব বলেন, সরকারপ্রধান জানিয়েছেন- এক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই।
রোববার, (১১ জানুয়ারী ২০২৬) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন শফিকুল আলম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী, প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব বলেন, ‘সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করবে ও সচেতনতা তৈরি করবে। সরকার এ বিষয়ে টপ লিগ্যাল এক্সপার্টদের কাছ থেকে মতামত নিয়েছে। তারা লিখিতভাবে সরকারকে জানিয়েছে যে, সরকার চাইলে প্রচারণা চালাতে পারে, এ বিষয়ে কোনো আইনগত বাধা নেই।’
নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়াকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে মন্তব্য করে শফিকুল আলম বলেন, ‘আপনারা জানেন- সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে কীভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অনেক ভায়োলেন্স ইনফেস্টিগেট করা হচ্ছে। তাছাড়া পতিত স্বৈরাচারের লোকেরা ইলেকশন ডিজরাপ্ট করার চেষ্টা করবে। তবে সিকিউরিটি ফোর্সেস পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য।’
গণভোটের ব্যালট
জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রস্তাব থাকবে। এসব প্রশ্নের বিপরীতে ভোটারদের কাছে কেবল একটি ঘরে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট চাওয়া হবে।
ব্যালট পেপারটি এমন- জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি আছে?: (হ্যাঁ/না)
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
(গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।
(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।