image
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসি নয়, গত তিনটি নির্বাচন পরিচালনার ভার ‘প্রশাসনের হাতেই’ ছিল: প্রতিবেদন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

দশম থেকে দ্বাদশ, বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচন পরিচালনার ভার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে নয়, প্রশাসনের হাতেই ছিল বলে এ বিষয়ক কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগকে ‘দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় রাখতে’ সর্বশেষ তিন সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ‘অভিনব মহাপরিকল্পনা’ করা হয়, যা বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

তিন নির্বাচনের ‘দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ তদন্তে গঠিত ‘জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন’ সোমবার, (১২ জানুয়ারী ২০২৬) এ প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশনের প্রধান হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সোমবার সন্ধ্যায় যমুনার সামনে ব্রিফিংয়ে এসে শফিকুল আলম বলেন, ‘সংস্কারের জন্য যেসব কমিশন করা হয়েছিল, আজকে (সোমবার) তার শেষ কমিশনের সব প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। এই কমিশনটা হল, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ এর উপর তদন্ত কমিশন।’

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে’ এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। এতে বলা হয়, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর তিন নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে উঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তিন সংসদ নির্বাচন ঘিরে ওঠা অভিযোগ পর্যালোচনা এবং নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা বিশ্লেষণে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে সরকার। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন পর্যালোচনায় গত ২৬ জুন এ কমিটি করা হয়।

পরে ক্ষমতা বাড়িয়ে এটিকে কমিশনে রূপান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। তখন কমিশনকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়। পরে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

যমুনার সামনে ব্রিফিংয়ে শামীম হাসনাইন বলেন, ‘২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ এর তিনটা ইলেকশন বটে, কিন্তু এটার মাস্টারপ্লান একটা। এই মাস্টারপ্লানটা হয়েছে ২০০৮ সালের পরে। ওই নির্বাচনের পরে, ওখান থেকে একটা পরিকল্পনা ছিল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারটা বাতিল করা। পরে ২০১১ সালে ওটা বাতিল করা হয়।’

কমিশন সভাপতি বলেন, ‘ওই সময়ে ওটা বাতিল করার পেছনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছিল। ইভেনচুয়ালি রুলিং পার্টি যতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে যে কোনো স্ট্র্যাটেজিতে যে কোনোভাবে তার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটা বাধা ছিল। পদ্ধতিটা বাতিল করার পর যে নির্বাচনটা হলো তার সবকিছু স্বচ্ছভাবে আমাদের প্রতিবেদনে এসেছে।’ তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সচিব পদমর্যাদার সাবেক কর্মকর্তা শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক (সুপণ), ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন ও নির্বাচন বিশ্লেষক মো. আব্দুল আলীম।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» মনোনয়নপত্র বাতিল: তিন দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ১৫০ জন

সম্প্রতি