দলে মোস্তাফিজ থাকলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিরাপত্তা কমিটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠি পাঠিয়ে ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে তিনটি শঙ্কার কথা জানিয়েছে। দলে মোস্তাফিজুর রহমান থাকলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে, এমন তথ্য জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি দাবি করেছেন, ‘বাংলাদেশ দলে যদি মোস্তাফিজুর রহমান অন্তর্ভুক্ত হয়, বাংলাদেশ দলের সমর্থকরা যদি জাতীয় দলের জার্সি পরে ঘোরাফেরা করে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে তত নাকি বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।’
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কার্যালয়ে সোমবার, (১২ জানুয়ারী ২০২৬) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইসিসির নিরাপত্তা দলের চিঠির প্রসঙ্গ সামনে আনেন আসিফ নজরুল। যেখানে কী কী কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে চিঠিতে বলা হয়েছে।
আইসিসির এমন বক্তব্যকে ‘উদ্ভট’ ও ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আইসিসি যদি আশা করে আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ বোলারকে বাদ দিয়ে দল গড়বো, সমর্থকরা জার্সি পরতে পারবে না, আর খেলার জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেব, তবে এর চেয়ে অবাস্তব প্রত্যাশা আর হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ক্রিকেটের উপর কারও মনোপলি থাকা উচিত না। আইসিসি যদি সত্যিই গ্লোবাল অর্গানাইজেশন হয় এবং ভারতের কথায় উঠবস না করে, তবে অবশ্যই বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ দেয়া উচিত। এই প্রশ্নে আমরা কোনো রকম নতি স্বীকার করবো না।
ভারতে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘ভারতে এখন যে উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ-বিদ্বেষী পরিবেশ বিরাজ করছে, বিশেষ করে গত ১৬ মাস ধরে চলা অব্যাহত ক্যাম্পেইনের ফলে সেখানে ক্রিকেট খেলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মোস্তাফিজের ইস্যু এবং আইসিসির এই চিঠির মাধ্যমে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’
সর্বশেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘যেখানে আমাদের দলের একটা প্লেয়ারের খেলার পরিবেশ নাই, এই উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা নত করে ন্যাশনাল একটা অথরিটি ভারতের জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড যখন বলে তাকে এখানে খেলানো না হোক, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী আছে আইসিসির সামনে, বুঝলাম না। এটা তো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, আমাদের ওখানে খেলার পরিবেশ নাই। ভারতের কোনো জায়গাতে খেলার পরিবেশ নাই।’
টি-২০ বিশ্বকাপের দল এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। সেখানে আছেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজ। টি-২০ বিশ্বকাপের পর আইপিএলে তার খেলার বিরুদ্ধে ছিলেন ভারতের কিছু রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতা। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোস্তাফিজকে বাদ দেয়ার নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। এর কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। ভারত থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচ সরিয়ে নেয়ার দাবি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইসিসিকে দুটি চিঠি দিয়েছে বিসিবি। এর একটির জবাব দিয়েছে আইসিসি।
আইসিসির চিঠিতে কী আছে বিসিবি এখনও প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফিস বলেন, চিঠিতে কী লেখা আছে তার জানা নেই। তিনি বলেন, ‘এমনিতে আইসিসির সঙ্গে বিসিবির যোগাযোগ ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের মাধ্যামেই হয়। তবে এ ব্যাপারে যোগাযোগ হচ্ছে সরাসরি বিসিবি সভাপতি ও প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে। এই চিঠি আমার এখতিয়ারের বাইরে।’
কলকাতা ও মুম্বাই থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ চেন্নাই ও ত্রিভেন্দ্রামে সরিয়ে নেয়ার বিষয়েও কথা বলেন আসিফ নজরুল। আইসিসি অবশ্যা এখনও এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
তিনি বলেন, ‘তারা শ্রীলঙ্কায় দেবে না, দুইটা ভেন্যু পরিবর্তন করে কেরালা এবং ত্রিভেন্দ্রামে দেবে। দুইটা ভেন্যুই তো ইন্ডিয়াতে! আর জিজ্ঞেস করছেন কেন? আমিতো বললাম ইন্ডিয়া মানে তো ইন্ডিয়াই। আমরা ইন্ডিয়ার কথা বলছি, আমরা তো কলকাতা বলি নাই। তাই আমাদের বক্তব্য যদি কলকাতা থেকে পরিবর্তন করে অন্য ভেন্যুতে দেয়া যায়, তবে শ্রীলঙ্কায় দেয়া সমস্যা না।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম, আমি জানি না সত্যি নাকি মিথ্যা, পাকিস্তান নাকি আমাদের ম?্যাচগুলো আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানে করেন কোনো সমস্যা না, সংযুক্ত আরব আমিরাতে করেন কোনো সমস্যা না। কিন্তু যেখানে আমাদের দলের একটা খেলোয়াড়ের খেলার পরিবেশ নাই, এই উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা নত করে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) যখন বলে তাকে এখানে খেলানো না হোক, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী আছে আইসিসির সামনে আমি বুঝলাম না।’