image
ছবিঃ সংগৃহীত

এলপি গ্যাসের ব্যবসা ‘লুটেরা, সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে’: রেস্তরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

এলপি গ্যাসের বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তার জন্য করপোরেট ব্যবসায়ীরা দায়ী বলে মনে করছে বাংলাদেশ রেস্তরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনটির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেছেন, করপোরেট ব্যবসায়ীদের সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটের কারণে বেশিরভাগ রেস্তরাঁ গ্যাস পাচ্ছে না।

তারা ‘কৃত্রিম সংকট তৈরি করে’ এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার প্রাকৃতিক গ্যাসের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে পাইপ লাইনের গ্যাস বন্ধ করেছিল

কৃত্রিম সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকেও দায়ী করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখিয়ে রেস্তঁরা খাতে পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়। তবে এ খাতে ‘মাত্র ৫ শতাংশ’ গ্যাস ব্যবহার হতো।

মঙ্গলবার, (১৩ জানুয়ারী ২০২৬) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ রেস্তরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে রেস্তরাঁ খাতে। ফলে দেশের রেস্তরাঁ সেবার আজ এক গভীর সংকটময় সময় অতিক্রম করছে।’

সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, ‘দেশে এখন লুটেরা, সাম্রাজ্যবাদীরা এখন এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা করছে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বেশিরভাগ রেস্তরাঁ গ্যাস পাচ্ছে না। যারা কিনছে, তারা ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে। এ অবস্থায় পেট্রোবাংলা ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে রয়েছে। এছাড়াও সরকারের কোনো উপদেষ্টা এ নিয়ে কথা বলছে না; কোনো কার্যক্রম নেই। শুধু ভোক্তা অধিদপ্তর লোক দেখানো কিছু জরিমানা করছে। তাতে আরও হিতে বিপরীত হয়েছে।’

এলপি গ্যাসের (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি) আমদানি ও ব্যবসা বেসরকারি খাতে তুলে দেয়ার কারণে সংকট দিন দিন বাড়ছে অভিযোগ করে ইমরান হাসান বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখিয়ে রেস্তরাঁ খাতে পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়। তবে এ খাতে মাত্র ৫ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হতো। সেটা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমলাদের যোগসাজশে আমদানি করা এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা বেসরকারি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে পাইপলাইনের গ্যাস বন্ধ করার মাধ্যমে। যারা বর্তমানে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে একচেটিয়া ব্যবসা চালাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে করপোরেট সিন্ডিকেট একচেটিয়াভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করছে, যার প্রভাব এলপিজি ও জ্বালানিসহ অনেক খাতেই স্পষ্ট। বিদ্যমান সব সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে সব রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। আমাদের বন্ধ করে দিতে হবে।’

আবাসিকে এবং রেস্তরাঁয় রান্নার কাজে এখন বহুল ব্যবহৃত হয় এলপি গ্যাস। বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি চলে এলপি গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডার। সরকার এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দরে বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তীব্র জ্বালানি সংকট, ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের হয়রানি, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যে দিশেহারা পরিস্থিতি, নিয়ম বহির্ভূত স্ট্রিট ফুডের দৌরাত্ম্য বাড়ায় রেস্তরাঁ ব্যবসা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা, ‘জেলা প্রশাসকের সনদ, সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিয়মের কারণে ছোট উদ্যোক্তারা ব্যবসায় টিকতেই পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে লাইসেন্স বন্ধ থাকলেও অর্থের বিনিময়ে তা দেয়া হচ্ছে, যা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছে।’

গত এক মাসের বেশি সময় ধওে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। চলমান সংকটের কারণে এরপরও অনেকে গ্যাস পাচ্ছেন না। উপায় না পেয়ে বিদ্যুৎচালিত ইনডাকশন বা ইনফ্রারেড চুলা কিনছেন অনেকে। সংকট কাটিয়ে উঠতে বাকিতে এলপিজি আমদানির সুযোগ দিয়েছে সরকার।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি