জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ‘অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি সামাল দিতেই’ আপাতত অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
নির্বাচন ঘিরে বিদেশিদের ভিসা নিয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মতো ইমিগ্রেশন কাজ শুরু করছে, জানালেন এক কর্মকর্তা
বুধবার, (১৪ জানুয়ারী ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অনেক রকমের চেষ্টা হতে পারে? হুট করে যেন কেউ হাজির হতে না পারে, সেজন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিদেশিদের আগমনী ভিসাসহ (অন- অ্যারাইভাল) অন্যান্য ভিসা দেয়ায় নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখা থেকে গত সোমবার এ নিয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব শফিকুল ইসলাম এ আদেশে সই করেন।
এ আদেশ জারির পর আগমনী বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বুধবার সকাল থেকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করা হয়েছে এমন তথ্যে অনেক যাত্রীর মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগের চেষ্টা করে অনেকেই ব্যর্থ হয়েছে।
এ নিয়ে বুধবার ইমিগ্রেশন ও পুলিশ সদর দপ্তরসহ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে অবশেষে বুধবার বিকেলে আদেশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে সেই আদেশে আগমনী বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। পরে সন্ধ্যার দিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মন্ত্রণালয়ের আদেশের কপি, পুলিশ মহাপরিদর্শক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর, মহাপরিচালক ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক স্পেশাল বাঞ্চ। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
যা বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের আদেশে
বিদ্যমান ভিসা নীতিমালা-২০০৬ ও পরবর্তীতে জারিকৃত অন্যান্য প্রজ্ঞাপনের শর্তাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রযোজ্য ডকুমেন্টস যাচাই পূর্বক বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন/দূতাবাস থেকে সুনির্দিষ্ট ভিসা দেয়া হবে।
২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরে একটি স্বারকে জারিকৃত পরিপত্রের শর্তাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ পূর্বক বিনা ভিসায় আগতদের আগমনী ভিসা দেয়া হবে।
আগমনী ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে আগমনের উদ্দেশ্য, স্পন্সরকারী প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি, হোটেল, আবাস্থল, ফিরতি টিকেট ইত্যাদির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুঙ্খনুপঙ্খভাবে বিবেচনা করে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় বা সন্দেহের ক্ষেত্রে ভিসা দেয়া যাবে না।
বিদেশি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশে আগমনের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়/প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী- এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ পর্যবেক্ষণের জন্য আগম বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ’সম্বলিত সিলসহ আগমনী ভিসা ( অন-অ্যারাইভল) দেয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভিসা ফি মওকুফ পূর্বক আগমনী দেয়া যাবে।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদান, আগমন, প্রস্থানের সময় নিয়োজিত স্পেশাল বাঞ্চ, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করবে।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস মিশন, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা দেয়া, আগমন-প্রস্থানের বিস্তারিত তথ্যাদি প্রতিদিন নিয়মিতভাবে এক্সেল ফরমেটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব (বহিরাগমন অনুবিভাগ)-এর প্রদত্ত ইমেইল (immigrationwing@moha,gov.bd) পাঠাতে হবে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
যা বললো ইমিগ্রেশন
ইমিগ্রেশনের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন উপলক্ষে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের যাতে কোনো ‘অসুবিধা না হয়’ তার জন্য এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অন-অ্যারাইভাল ভিসায় অন্যরা যাতে এ সময় না আসে তা নিরুৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে কেউ আসতে চাইলে সমস্য হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় ইমিগ্রেশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মতো কাজ শুরু করছি।’