বাহরাইনে ‘পোস্টাল ব্যালট বিতরণ’ করার ঘটনা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

কূটনৈতিক বার্তা পরিবেশক

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাহরাইনে ‘জামায়াত নেতার বাসা থেকে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ’ করার ঘটনা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, মায়ানমার সংকট সমাধান করতে আরও সময় লাগবে।

মায়ানমার সংকট সমাধানে আরও সময় লাগবে

চীনের সঙ্গে সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চুক্তির পরিকল্পনা

বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে চুক্তির পরিকল্পনা করছে বলে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। বুধবার, (১৪ জানুয়ারী ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

বাহরাইনে ‘জামায়াত নেতার বাসা থেকে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ’ করা হচ্ছে বলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি অভিযোগ তুলে বলেছে, বিদেশে একটি ‘বিশেষ গোষ্ঠী’ ব্যালট পেপার নিয়ন্ত্রণ করছে। পোস্টাল ব্যালট বিতরণে ‘ত্রুটি হচ্ছে’।

পোস্টাল ব্যালট বিতরণের এ ঘটনা তদন্তের বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নেয়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ইচ্ছুক ১৫ লাখ, সংখ্যাটা একেবারে কমও না। এই চেষ্টাতে কিছু সমস্যা হবেই। আমাদের যারা এই রাজনীতির ক্ষেত্রে বিচরণ করেন, তারা সবাই যে পারফেক্ট মানুষ তা তো না। কোনোখানেই পারফেক্ট মানুষ নেই। তো, কেউ এটাকে মিসইউজ করার চেষ্টা করবে, এটা তো অবাক হওয়ার কিন্তু কিছু নেই। আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন ‘মিসইউজ’ না হয়। এবং যখনই কিছু জানা যাবে, সেটা ‘ইনকোয়ারি’ করা হোক। ‘ইনকোয়ারির’ নির্দেশ হয়েছে বলে আমি জানি। এখন কতটুকু এগিয়েছে, আমি ঠিক বলতে পারছি না।’

এমন ঘটনায় বাংলাদেশ মিশনগুলোর দায়িত্ব নিয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দেখুন, বিষয়টা এরকম। পোস্টাল ব্যালটটা তো মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে এবং তারপর সেখান থেকে তারা ভোট দিয়ে ‘বাই পোস্ট’ পাঠাবে। মিশনের ভূমিকা যে খুব বেশি, তা কিন্তু না। কাজেই, আমাকে এটা এই ‘পয়েন্ট অফ ভিউ’ থেকে দেখতে হবে।’

মায়ানমার সংকট সমাধানে আরও সময় লাগবে

মায়ানমার সংকট নিয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মায়ানমার সংকট সমাধানে আরও সময় লাগবে। বাংলাদেশকে এই সংকট সমাধানের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জানানো হয়েছে। আরাকান আর্মিকে লিগ্যাল হিসেবে স্বীকার করে না সে দেশের সরকার। মায়ানমারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ত্যাগ করিনি। যখন প্রথম স্টেজ শুরু হয়েছিল দীর্ঘ সময় লাগবে বলেছিলাম।

তিনি বলেন, আমি এখনও বিশ্বাস করি যে মায়ানমারের সংকট সমাধানে অনেক সময় লাগবে। এর মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন হবে এবং আমাদের আল্টিমেটলি আরও দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি নিয়েই এগোতে হবে, যাতে সমস্যার সমাধান করতে পারি। সেই চেষ্টা চলছে। এর বেশি বিস্তারিত এই মুহূর্তে আমি বলতে চাই না।

সীমান্তে সংঘাত নিয়ে মায়ানমারের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আরাকান আর্মি তো ওই দেশের সরকার। সরকারের একটা এন্টিটি আছে কিন্তু তারা তাদের লিগ্যাল এন্টিটি বলে স্বীকার করে না। আমাদের বিষয়টা হচ্ছেÑ আমরা তো অফিসিয়ালি তাদের সঙ্গে কমিউনিকেট অবশ্যই করি না, করতে পারিও না। কারণ ননস্টেট অ্যাক্টরের সঙ্গে তো আমরা একটা স্টেট হিসেবে এটা করবো না। বিশেষ করে মায়ানমারের সঙ্গে তো আমরা সম্পর্ক ত্যাগ করিনি। এমন যদি হতো, মায়ানমারের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক ত্যাগ করেছি। কাজেই আমাদের এই পয়েন্ট অব ভিউ থেকে দেখতে হবে। সেটাই হয়তো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, তার বাহিনী, তাদের সঙ্গে একটু সমস্যা আছে সবসময়। এটি একটি সমস্যা, যা একদিনে শুরুও হয়নি। একদিনে শেষও হয়ে যাবে না।

সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে চুক্তির পরিকল্পনা

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে জি-টু-জি (গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট) ভিত্তিতে চুক্তির পরিকল্পনা করছে।

সরকারের এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাবের প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা অবশ্যই এমন কিছু করবো না, যাতে করে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আমরা এটা ব্যালেন্স বজায় রেখেই করবো।

তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনীসমূহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এয়ারফোর্সের কথা ধরুন, আমাদের এয়ারক্রাফটগুলো অনেক পুরনো, অনেকগুলো সার্ভিসেভল অবস্থায়ও নাই। কাজেই আমাদের মিনিমাম কিছু ক্রয় করতে হবে। কোথা থেকে করা হবে, কোন দেশ থেকে কতটা আনা হবে, এগুলো নিয়ে আসলে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এমন কিছু করবো না যাতে করে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আমরা এটা ব্যালেন্স বজায় রেখেই করবো।

সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে ৬০৮ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে গত ৬ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ধরনের প্রকল্প মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের পর প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দেন।

অন্য দেশের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেড় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কোনো জোটে ঢুকে নাই। বিভিন্ন গ্রুপিং নিয়ে কিন্তু আলাপ-আলোচনা চলতে থাকবে। আমরা যদি দেখি গ্রুপ সৃষ্টিতে আমাদের স্বার্থ আছে এবং তাতে যুক্ত হলে আমাদের স্বার্থ রক্ষিত হবে তাহলে অবশ্যই যাব, না হলে তো যাবার প্রশ্নই উঠে না।

ভারতে বাংলাদেশের তিনটি মিশনে ভিসা চালুর বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা একটা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এটা বন্ধ রেখেছি। আমাদের তো সিকিউরিটি দেখতে হবে মিশনের।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» খেলাফতের মামুনুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইসির

» জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ১৪শ’ মানুষের রক্তে লেখা: আলী রীয়াজ

» শিপিং করপোরেশনের ‘মুনাফা ৩০৬ কোটি টাকা’, লাভ ধরে রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

» বাংলাদেশে আগমনী বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

» বিগত ৩ নির্বাচনে আ’লীগকে জয়ী করতে গোয়েন্দা সংস্থার অনেকে ‘স্বপ্রণোদিত’ ছিলেন: প্রতিবেদন

সম্প্রতি