বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ হতে। ৫৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিটটির মেরামত/সংস্কারের কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষের আশা প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে এই ইউনিট হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে।
কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের মধ্যে মেরামত কাজ চলছে ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ইউনিটের। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এ ইউনিট হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলেই ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১নং ইউনিটটিরও প্রয়োজনীয় মেরামত করে চালু করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বেশকিছু দিন ধরে নানা ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে। বর্তমানে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের সবকটি ইউনিট হতেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ২নং ইউনিটটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার ওপর নির্ভর করে ২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রেটি নির্মাণ করা হয়। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তাপবিদুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম চলে। যা থেকে উৎপাদিত বিদুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করা হয়।
তিনটি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। বিগত ৫ বছর আগে ৩য় ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মাঝে মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যায় এই ইউনিটটি। গত বছরের ১ নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ৩ নম্বর ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কেবল ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিট চালু ছিল, সেখানে উৎপাদন হতো মাত্র ৫০-৬০ মেগাওয়াট, সেটিও গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিট হতে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা থাকলেও শুরু থেকেই এ কেন্দ্র হতে ৩টি ইউনিট চালু রেখে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনটি ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে বড়পুকুরিয়া খনির উৎপাদিত কয়লার মজুত বাড়ছে ইয়ার্ডে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের ভারী, মাঝারি শিল্পকারখানাগুলোসহ বোরো আবাদে সেচ মৌসুম ব্যাহত হবে। উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছরের ১ নভেম্বর যাত্রিক ত্রুটির কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। চীনা হারবিন কোম্পানি ৩য় ইউনিটের মেরামত কাজ করেছেন। এটি সংস্কার করতে ব্যয় ধরা হয়েছে (৪.৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার) যা বাংলাদেশি টাকায় ৫৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৪ টাকা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ৩য় ইউনিটটি চালুর মধ্য দিয়ে প্রায় ২ মাস বন্ধ থাকার পর এ কেন্দ্র হতে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে প্রধান প্রকৌশলী আশা প্রকাশ করেন।