image
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থান: দায়মুক্তি পাচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। গতকাল প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

উপদেষ্টা পরিষদে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন, গেজেট ৭ দিনের মধ্যে

এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল: আসিফ নজরুল

ইতোমধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে সে মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেবে সরকার। এছাড়া এখন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা যাবে না

রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রক্রিয়ায় কোনো হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকলে দায়মুক্তি পাবে। ব্যক্তিগত সংকীর্ণতার স্বার্থে হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকলে মামলা হবে। কোন ধরনের হত্যাকাণ্ড এটা নির্ধারণ করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

৩১ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হবে

ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই ঘোষণা করেছিলাম, এটা আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ আজকে (বৃহস্পতিবার) কেবিনেটে অনুমোদিত হয়েছে। এটা আশা করি, আগামী ৫/৭ দিনের মধ্যে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে আইনে পরিণত হবে।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘এখানে মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশে সংগঠিত কার্যাবলি থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিরোধ বলতে আমরা বুঝিয়েছি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত যে সব কার্যাবলি ছিল, সে সমস্ত কার্যাবলির ফৌজদারি দায়-দায়িত্ব থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। এটা হচ্ছে জুলাই এবং আগস্টে সংগঠিত কার্যাবলি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

শিক্ষার্থী জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওইদিন দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে শুরু হওয়া এই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকার পতনের এক দফায় মোড় নেয়। আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরতা অবলম্বন করে, হতাহত হয় অসংখ্য মানুষ। শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষের পাশপাশি সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হন।

দায়মুক্তি পাবেন যারা

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতোমধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে সে মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেবে সরকার। এছাড়া এখন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা যাবে না। তবে জুলাই ও আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তি ও সংকীর্ণ স্বার্থে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকলে সে ফৌজদারি মামলা থেকে রেহাই পাবে না।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যদি কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকে, যেটার সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থান সম্পৃক্ত নয়, লোভের বশবর্তী হয়ে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ও সংকীর্ণ স্বার্থে হত্যাকাণ্ড ঘটায় এ আইনের মাধ্যমে তাকে দায়মুক্তি দেয়া হবে না। আইনটি তাদের জন্য করা হয়নি। আইনটি করা হচ্ছে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংঘটিত কার্যাবলির ক্ষেত্রে। সে কার্যাবলিতে যারা সমন্বিতভাবে জড়িত ছিল, তাদের দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে।’

দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের

তিনি বলেন, ‘এখন প্রশ্ন আসতে পারে কোন হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রক্রিয়ায় হয়েছে আর কোন হত্যাকাণ্ড ব্যক্তিগত সংকীর্ণতার স্বার্থে হয়েছে। এটা নির্ধারণের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেয়া হয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘কোনো ভিকটিমের (ভুক্তভোগী) পরিবার মনে করে তার পিতা বা তার ভাই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কোনো সম্পর্ক ছিল না, তাহলে তারা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে যাবেন। মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করে যা দেখবে, তারা সে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবে। পুলিশের মতো মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন সমান বলে গণ্য হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তে যদি উঠে আসে রাজনৈতিক প্রতিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড তাহলে তাকে দায়মুক্তি দেয়া হবে। আর যদি ব্যক্তিগত কোনো সংকীর্ণ স্বার্থে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকে, তাহলে সেই অপরাধ থেকে কেউ রেহাই পাবে না।’

বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নেই। তাহলে ভুক্তভোগীরা কার কাছে যাবেন- এক সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হবে।’

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» আইসিজেতে মায়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনের বিচার শুরু

সম্প্রতি