সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্মরণে শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই শোকসভাটি দুপুর আড়াইটায় শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার, (১৫ জানুয়ারী ২০২৬) শোকসভার বিস্তারিত তথ্য জানাতে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘নাগরিক শোকসভা’ কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রধান উদ্যোক্তা মাহবুব উল্লাহ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও নিয়মাবলি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব উল্লাহ স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি বা জনসভা নয়। তিনি বলেন, ‘দার্শনিকভাবে মানুষের প্রতিটি কাজই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও, এই আয়োজনটি রাজনৈতিক দলমুক্ত। এখানে কোনো রাজনৈতিক নেতা মঞ্চে বক্তব্য দেবেন না।’
তিনি আরও জানান, শোকসভায় শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এবং সনাতন ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরাও স্মৃতিচারণ করবেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তারা দর্শকসারিতে অবস্থান করবেন।
নাগরিক শোকসভায় সভাপতিত্ব করবেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানে মরহুমা খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি ও বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের আমন্ত্রিত অতিথিরাও অংশ নেবেন।
শোকসভার গাম্ভীর্য ও মর্যাদা রক্ষায় বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন আয়োজকরা। এর মধ্যে রয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলে কোনো ধরনের সেলফি তোলা, হাততালি দেয়া বা দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। আগত অতিথিদের সাদা-কালো পোশাক পরিধান করে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রণপত্র ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।
এমনকি মিডিয়াকর্মীদের জন্যও আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন শুধুমাত্র দাওয়াতপ্রাপ্ত রিপোর্টার, ক্যামেরাপার্সন ও মাল্টিমিডিয়া কর্মীরা অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারবেন। আড়াই হাজারের বেশি আমন্ত্রণপত্র সাংবাদিকদের পাঠানো হয়েছে। ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট, অনলাইন প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা বুথ রাখা হয়েছে।
মাল্টিমিডিয়ার কর্মীরা আসতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নে আয়োজকেরা বলেন, ‘অফিস যাকে দায়িত্ব দেবে, সেই রিপোর্টার, ক্যামেরাম্যান বা মাল্টিমিডিয়া কর্মী প্রবেশ করতে পারবেন। তবে অবশ্যই আমন্ত্রণপত্র থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের জন্য দুপুর সাড়ে ১২টায় গেট খুলে দেওয়া হবে। অতিথিদের প্রবেশের জন্য ৬ নম্বর গেট এবং বের হওয়ার জন্য আসাদ গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। পায়ে হেঁটে প্রবেশের জন্য বকুলতলা গেট (১২ নম্বর) ব্যবহার করা যাবে।
গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক পালন করা হয়। মাহবুব উল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, এই শোকসভাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মর্যাদাবান অনুষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নেবে।
অপরাধ ও দুর্নীতি: জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে জালিয়াতি, তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়
শিক্ষা: এসএসসি পরীক্ষা ২১ এপ্রিল শুরু