image
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে: ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত

কূটনৈতিক বার্তা পরিবেশক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেছেন, ‘বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এটি শুধু সফল সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রশ্ন নয়; বরং বাংলাদেশে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এটি চতুর্থ প্রচেষ্টা।’ রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচন শুধু পদ্ধতি বা ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্জিত হয় না; নির্বাচন গড়ে ওঠে আস্থার ওপর। যখন রাজনৈতিক পক্ষগুলো সংঘাতের বদলে সংলাপ বেছে নেয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে গোষ্ঠীগুলো শান্তির দায়িত্ব নেয়, তখন সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

বৃহস্পতিবার, (১৫ জানুয়ারী ২০২৬) ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার। রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আলোচনাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)। আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিইআইয়ের সভাপতি ও সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবির।

ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, ‘ঐকমত্য জোরদার করা এবং কমিউনিটিভিত্তিক শান্তি-উদ্যোগকে সহায়তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়।’ তার মতে, গণতন্ত্রে নারী কেবল অংশগ্রহণকারী নন, তারা নেতা এবং শান্তি নির্মাতা।

গণতন্ত্র চাইলে দায়িত্বশীল নাগরিক থাকা জরুরি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। কারণ এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জন-আস্থা গড়ে তোলে।’

ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে জানাতে চাই যে আমরা কোনো নির্দিষ্ট গণতন্ত্রের মডেল চাপিয়ে দিতে চাই না। যেমনটি চার্চিল বলেছিলেন, এটি হয়তো শাসনব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে কম খারাপ ব্যবস্থা। আমরা এটাও জানি যে গণতন্ত্র সবার জন্য একরকম নয়; এটি গড়ে উঠতে সময় লাগে।’

গণতান্ত্রিক উত্তরণে তার দেশের ৫২ বছর লেগেছে উল্লেখ করে ডেনমার্কের এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সংবিধান পাওয়ার পর আমাদের কার্যকর একটি মডেলে পৌঁছাতে ৫২ বছর লেগেছে। আমাদের সংবিধানে ছয়বার বড় পরিবর্তন এসেছে। কোন মডেলটি একটি দেশের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করবে, তা খুঁজে পেতে সময় লাগে। এমনকি আজও ডেনমার্কে আমরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ি এবং নিয়মিতভাবে আমাদের ব্যবস্থা উন্নত ও সমন্বয় করতে হয়।’

ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, ‘ডেনমার্কে আমরা আংশিকভাবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক একটি ব্যবস্থা অনুসরণ করি। এটি আমাদের জন্য ভালোভাবে কাজ করেছে। ইউরোপের অনেক দেশে এটি দেখা গেছে। এটি বহুদলীয় রাজনীতি ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলে।’

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিও কিছুটা আলাদা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হয়। আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি যে, বাংলাদেশ হয়তো ভবিষ্যতে আসন্ন গণভোটের মাধ্যমে সংসদের নতুন কাঠামোয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের কিছু উপাদান অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করতে পারে, যাতে দ্বিধাবিভক্ত ও চরম মেরুকৃত রাজনীতির বাইরে আসা যায়। এটি কোনো ১০০ ভাগ নিখুঁত মডেল নয়, তবে এগিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে।’

গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাপ্ত গবেষণা ফলাফল তুলে ধরেন বিইআইয়ের সহকারী পরিচালক নিপা রানী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার প্রমুখ।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» আইসিজেতে মায়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনের বিচার শুরু

সম্প্রতি