গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা কেন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে, ব্যাখ্যা দিলো তার দপ্তর

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে অনুষ্ঠেয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তার এই সমর্থন ‘অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিরপেক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে সমালোচনা চলছে। তবে এই সমালোচনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার আলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

রোববার, (১৮ জানুয়ারী ২০২৬) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের এই অবস্থান কোনোভাবেই প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী নয়; বরং এটি ‘সরকারের দায়িত্ব ও ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একইদিনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাবই ফুটিয়ে তোলে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কেবল দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের উদ্দেশে গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, শাসনতান্ত্রিক সংকট, জনঅনাস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই এই সরকার গঠিত হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘এই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা।’

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ভাষ্য, গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তৈরি হয়েছে। ফলে এই সংস্কারের প্রশ্নে সরকারের অবস্থান ‘না’ নেয়ার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ যে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মুহূর্তে সেই সংস্কার থেকে সেই সরকার নিজেকে দূরে রাখবে এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।’

এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক রীতিতে সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের বিষয়ে নীরব থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরাই গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের স্বাভাবিক ভূমিকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল প্রশ্ন হলো নেতারা অবস্থান নিলেন কিনা, তা নয় বরং ভোটাররা সেই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করতে স্বাধীন কিনা, বিরোধী পক্ষ প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারছে কিনা, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কিনা।’

বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব শর্ত বজায় রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, বিশ্বের অনেক দেশের সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিবর্তনসংক্রান্ত গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এসব ঘটনাকে গণতান্ত্রিক রীতির ব্যত্যয় হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গণভোটের বৈধতা নেতাদের নীরবতার ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে ভোটারদের স্বাধীনভাবে পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেয়ার সুযোগের ওপর।’

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান যৌক্তিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ, কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের রয়েছে সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট; প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের জরুরি প্রয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ; ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতিতে বিশ্বাসী।

অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষে বলা হয়, ‘শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণেরই। এটাই গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা। নেতৃত্ব সেই সিদ্ধান্ত কেড়ে নেয় না; বরং তা স্পষ্ট ও অর্থবহ করতে সহায়তা করে।’

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের খসড়া মহাপরিকল্পনা বাতিলসহ ৫ দফা দাবি

» গণভোট: ‘হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ‘আইনগত বাধা নেই’, দাবি আলী রীয়াজের

সম্প্রতি