image

বেরোবিতে দুদকের অভিযান: জাল সনদে কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগের সত্যতা পেয়েছে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের নামে জাল সনদসহ ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে চাকরি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়ার তদন্তে রোববার, (১৮ জানুয়ারী ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের দপ্তরে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ সময় দুদক কর্মকর্তারা বিভিন্ন কাগজপত্র তলব করে পরীক্ষা করেন এবং বেশকিছু অনিয়মের সত্যতা পান। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষকও ভুয়া সনদ ও কাগজপত্র দিয়ে চাকরি নিয়েছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান তারা।

রংপুর সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল প্রথমে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী ও রেজিস্ট্রার ড. হারুনুর রশিদের দপ্তরে যান এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা বিশেষ করে ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সে সংক্রান্ত নথি তলব করেন।

প্রায় এক ঘণ্টা উপাচার্যের চেম্বারের সামনে অপেক্ষাকালে দুদক কর্মকর্তারা উপাচার্যের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের চেম্বারে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে চাহিত নথি সরবরাহের অনুরোধ জানান।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক বেলাল হোসেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছেন। আরও কিছু নথি দ্রুত সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে, আশা করা হচ্ছে আজকের মধ্যেই পাওয়া যাবে। পরবর্তীতে এসব কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, জাল সনদ ও ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন এমন অভিযোগের সত্যতা তারা পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাত্র একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। সে কারণেই সংশ্লিষ্ট আরও কাগজপত্র তলব করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে দুদক কর্মকর্তা বলেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুনুর রশিদ জানান, ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে চাকরি করছেন এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একইভাবে ভুয়া সনদ ও মার্কশিট জাল করে কয়েকজন শিক্ষকও নিয়োগ পেয়েছেন এমন অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ভুয়া কাগজপত্র ও জাল সনদ দিয়ে চাকরি করছেন, তাদের কেউ কেউ ১২-১৩ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন। তিনি দায়িত্ব নিয়ে আসার পর এসব অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের খসড়া মহাপরিকল্পনা বাতিলসহ ৫ দফা দাবি

» গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা কেন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে, ব্যাখ্যা দিলো তার দপ্তর

» গণভোট: ‘হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ‘আইনগত বাধা নেই’, দাবি আলী রীয়াজের

সম্প্রতি