image
ছবিঃ সংগৃহীত

বুড়িতিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

প্রতিনিধি, ডিমলা (নীলফামারী)

রাষ্ট্রীয় মেগা প্রকল্প বুড়িতিস্তা নদী পুনঃখনন ঠেকাতে একটি সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু ও স্বার্থান্বেষী চক্র প্রকাশ্যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা ইসলাম। তিনি বলেছেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠকে সমঝোতা না করে একটি চক্র চ্যালেঞ্জ করে বসেছে। তারা সরকারের অধিগ্রহণকৃত জমি দখলে রেখে ভূমিহীন মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক কৃষক ন্যায্য ও স্বল্পমূল্যের সেচসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ৫শ লোকের জন্য লক্ষাধিক কৃষককে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেনা। গতকাল রোববার নীলফামারীতে বুড়িতিস্তা পুনঃখনন ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিক এবং যে কোনো মূল্যে বুড়িতিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। দখলদারদের হুঁশিয়ার করে উপদেষ্টা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বাধা নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদার হতে হবে।

এদিকে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নীলফামারীর ডিমলায় কেপিআইভুক্ত বুড়িতিস্তা ব্যারেজ ও আনসার ক্যাম্পে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বুড়িতিস্তা নদী পুনঃখনন প্রকল্প কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্বল অবস্থানের সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু চক্র একের পর এক হামলা চালিয়ে প্রকল্প এলাকা দখলে রাখছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ২০২১ সালের মে মাসে অনুমোদিত বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প-এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। প্রথম ধাপে ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়ে ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খননের কাজ শুরু করা হলেও ভূমিদস্যুদের বাধায় কাজ বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

প্রকল্প এলাকায় পাউবোর এসএ ও বিএস রেকর্ডভুক্ত মোট ১ হাজার ২১৭ একর জমির মধ্যে ৬৬৭ একরে খননসহ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু বুড়িতিস্তা ব্যারেজসংলগ্ন কুঠিরডাঙ্গা ও উজান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় সাত শতাধিক ভূমিদস্যু পাউবোর জমি জবরদখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

খনন কাজ শুরু হলেই দখলদারদের সঙ্গে পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংঘর্ষ বাঁধে। একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও মামলা হলেও দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

চরম সহিংসতার ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায়। ভূমিদস্যু নেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে মাইকিং করে শত শত লোক জড়ো করে ডিমলা-জলঢাকা সংযোগস্থলের কেপিআইভুক্ত আনসার ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়। এতে আনসার সদস্যদের ১০ রাউন্ড গুলি, প্রায় ৫০ জন সদস্যের ব্যক্তিগত মালামাল, আসবাবপত্র, রেশন ও নগদ অর্থ লুট করা হয়। খনন কাজে ব্যবহৃত সাতটি এক্সকাভেটর ভেঙে সম্পূর্ণ অকেজো করে দেয়া হয়।

পরদিন ১ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফা হামলায় অস্ত্রের মুখে আনসার সদস্যদের ক্যাম্প ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ ক্যাম্প পুনরুদ্ধার করলেও ততক্ষণে সব স্থাপনা প্রায় গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। পাউবোর হিসাবে এসব হামলায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এই ঘটনায় পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জুলফিকার রহমান বাদী হয়ে ৩ জানুয়ারি জলঢাকা থানায় ৪১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ৭ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের দিনই সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মশাল মিছিল এবং পরদিন মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়। সচেতন মহলের অভিযোগ, এটি বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ আড়াল করার সুস্পষ্ট অপচেষ্টা।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, একটি সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র বুড়িতিস্তা খনন ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। পাউবো কেবল অধিগ্রহণকৃত জমিতেই কাজ করবে। ব্যক্তিগত তিন ফসলি জমি দখলের অপপ্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ৬৪৫ ঘটনায় ‘সাম্প্রদায়িক উপাদান’ নেই ৫৭৪টিতে: প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

» ভোটের দোরগোড়ায় এসে ইসির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন, অভিযোগ পক্ষপাতেরও

» গণভোট দেশের স্বার্থে, দলের নয়: আসিফ নজরুল

সম্প্রতি